ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১৩৬* রান তৈরি করে, যার অধিকাংশই শেষ দশ ওভারে অর্জিত। ৩২তম ওভারে উইকেট হওয়া ব্রুক ৪০ ওভারে মাত্র ৩৫ রান নিয়ে শুরু করেন, এরপরই তার আক্রমণাত্মক খেলা শুরু হয়।
৪০ ওভারের পরেই ব্রুকের গতি ত্বরান্বিত হয়; প্রথম পঞ্চাশে তিনি ৪০ বলেই পাঁচটি ফিফটি সম্পন্ন করেন, আর পরের পঞ্চাশে মাত্র ১৭ বলেই আরেকটি ফিফটি যোগ করেন। এই ধারাবাহিকতা তাকে শেষ ২৭ বলেই অতিরিক্ত ৯০ রান বাড়াতে সক্ষম করে, যা পুরো ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ৬৯ রানের মধ্যে ৬৮ রান গঠন করে।
ইংল্যান্ডের মোট স্কোরের শেষ পর্যায়ে ব্রুকের অবদান অপরিসীম, আর জো রুটের ২০তম সেঞ্চুরি শেষের দিকে দর্শকের ভূমিকায় রয়ে যায়। ব্রুকের সেঞ্চুরি শেষ দশ ওভারের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ায় তিনি দলকে শক্তিশালী সমাপ্তি প্রদান করেন।
এই পারফরম্যান্স ওয়ানডে ক্রিকেটে শেষ দশ ওভারে সেঞ্চুরি করা নয়টি ব্যাটসম্যানের তালিকায় নবম স্থান দখল করে। পূর্বে এই শর্তে সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়দের মধ্যে এবি ডি ভিলিয়ার্স, রোহিত শর্মা এবং জস বাটলার দু’বার করে অন্তর্ভুক্ত।
এবি ডি ভিলিয়ার্স ২০১৫ সালে একই বছরে দুইটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস সম্পন্ন করেন; প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২১ রান, আর পরে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ১০৯ রান, উভয়ই শেষ দশ ওভারে অর্জিত।
রোহিত শর্মা ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১০ রান তৈরি করে এই শর্তে প্রথম শতক অর্জন করেন, এবং ২০১৭ সালে পুনরায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষ দশ ওভারে সেঞ্চুরি করেন, যা তাকে এই তালিকায় দু’বারের জন্য স্থান দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২০২৩ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ দশ ওভারে ১০৬ রান করে এই রেকর্ডে যোগ দেন। তার পারফরম্যান্সও শেষ দশ ওভারের মধ্যে শতক অর্জনের শর্ত পূরণ করে।
ইংল্যান্ডের জস বাটলার দুইটি পৃথক ম্যাচে এই শর্তে সেঞ্চুরি করেন; ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, উভয়ই শেষ দশ ওভারে ১০০ রনের বেশি স্কোর করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা এ থেকে হাইনরিখ ক্লাসেন একবার এই কীর্তি গড়ে তোলেন, যা তাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তার পারফরম্যান্সও শেষ দশ ওভারে শতক অর্জনের শর্ত পূরণ করে।
হ্যারি ব্রুকের এই বিশাল ইনিংস শেষ দশ ওভারে সেঞ্চুরি করা নবম ব্যাটসম্যানের মর্যাদা এনে দেয়, এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক খেলার উদাহরণ হিসেবে দাঁড়ায়। তার ১৩৬* রান শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ব্রুকের পারফরম্যান্সের পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফ দলীয় কৌশলকে প্রশংসা করেছে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচে একই আক্রমণাত্মক পদ্ধতি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি বা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সারসংক্ষেপে, হ্যারি ব্রুকের ১৩৬* ইনিংস শেষ দশ ওভারে সেঞ্চুরি অর্জন করে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে, এবং পূর্বের রেকর্ডধারীদের সঙ্গে তার নাম যুক্ত হয়েছে।



