যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আরোপিত শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিতে পারে বলে সূত্র প্রকাশ পেয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি জানিয়েছে। এই দুইটি উদ্যোগ দেশের রপ্তানি বাজারে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর লুৎফে সিদ্দিকী ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে এফটিএ বিষয়ক আলোচনার বিবরণ শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই ইচ্ছা গ্রহণ করেছে। তবে প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে ভারতের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত উদ্বেগের বিষয় নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আলোচনাকে অব্যাহত রাখা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়গুলোকে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নোট হিসেবে সংরক্ষণ করবে। লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, পরবর্তী সরকারকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে এই নোটগুলো কাজে লাগবে। এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রপ্তানি খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে প্রস্তুত পণ্য, গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল শিল্পে এই পদক্ষেপের ফলে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ইউরোপীয় ও আমেরিকান বাজারে প্রবেশের বাধা হ্রাস পাবে। রপ্তানিকৃত পণ্যের খরচ কমে গেলে বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস, চামড়া, জুয়েলারি এবং কৃষি পণ্যের জন্য নতুন বাজার পেতে পারে। তবে একই সময়ে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চলমান এফটিএ আলোচনার ফলে প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। এই দেশগুলোও ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের জন্য অনুকূল শর্ত তৈরি করতে পারে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি শেয়ারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শুল্ক হ্রাস এবং এফটিএ চুক্তি দুটোই রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তবে শুল্ক হ্রাসের ফলে স্বল্পমেয়াদে রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে, আর এফটিএ চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে। উভয় দিকেই নীতি নির্ধারকদের কৌশলগত সমন্বয় প্রয়োজন, যাতে রপ্তানি কাঠামো বৈচিত্র্যপূর্ণ হয় এবং একক বাজারের ওপর নির্ভরতা কমে।
ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। এছাড়া, বাণিজ্য নীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের শক্তিশালীকরণও অপরিহার্য। এভাবে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা এবং এফটিএ চুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা দুটোই সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার অগ্রগতি বাংলাদেশকে বহুমুখী বাণিজ্য কৌশল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তবে এই সুযোগগুলোকে বাস্তবায়নে ধীরগতির প্রক্রিয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক চাপকে সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। ভবিষ্যতে বহুমুখী চুক্তি এবং শুল্ক নীতি সমন্বয় দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।



