ঢাকা, মঙ্গলবার – গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আজ এক বিবৃতি প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করে উচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করছে, যা নতুন সরকারকে আর্থিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কমিটির মতে, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণের মতো মৌলিক সেক্টরে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিবর্তে প্রশাসনিক ও পরিচলন ব্যয়ে অতিরিক্ত তহবিল যুক্ত করা হচ্ছে। এই ধারা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বলে তারা সতর্ক করেছে।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ১৪ জন সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আনু মুহাম্মদ, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, নাজমুস সাকিব, দিলীপ রায়, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ফেরদৌস আরা রুমী, সজীব তানভীর, আবদুল্লাহ মাহফুজ, আকরাম খান, সীমা দত্ত, আফজাল হোসেন এবং ফারহানা শারমীন অন্তর্ভুক্ত।
কমিটি জানিয়েছে যে, আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপরিষদে ৭২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ৭৮৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই প্রকল্পের অনুমোদনকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে চিহ্নিত করে তারা উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের সম্পদ বরাদ্দের ফলে জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে তহবিলের ঘাটতি বাড়বে।
এর আগে মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব তীব্র সমালোচনার পর বাতিল করা হয়েছিল, তবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর রয়েছে। কমিটি এই বিষয়কে অস্বচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করে, যা জনসাধারণের বিশ্বাস ক্ষয় করে।
একই সময়ে, দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্য হার ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত দেড় বছরে লক্ষাধিক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষিতে, মৌলিক সেক্টরে ব্যয় না বাড়িয়ে উচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়াকে অযৌক্তিক বলে কমিটি সমালোচনা করেছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের গোপন তৎপরতা চালু করা হয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে স্বচ্ছতা ও যথাযথ আলোচনা না হওয়ায় কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অধিকন্তু, নির্বাচনের ছয় দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের গোপন প্রচেষ্টা চালিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমালোচনা করা হয়েছে। কমিটি দাবি করে যে, এই চুক্তি যথাযথ পর্যালোচনা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ ছাড়া করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি জোর দিয়ে বলেছে যে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত সুসংগঠিত ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা। রুটিন প্রশাসনিক কাজের বাইরে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো বৈধতা নেই, এবং এমন কাজের ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কমিটি উল্লেখ করেছে যে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া এবং জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে গোপনীয়তা, অস্বচ্ছতা এবং তাড়াহুড়োপূর্ণ প্রক্রিয়া দেশের স্বার্থের বিরোধী হতে পারে। তারা এই ধরণের তৎপরতাকে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিন্দা জানিয়েছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, নতুন সরকারকে আর্থিক দায়িত্বের ভারে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। উচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের পুনর্বিন্যাস এবং গোপন চুক্তির পুনঃমূল্যায়ন নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার থেকে এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে, কমিটি দাবি করেছে যে, স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই বিষয়গুলো দ্রুত স্পষ্ট করা উচিত, যাতে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সরকারী নীতি নির্ধারণে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে।



