28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমির্জা আব্বাস নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগকে মিথ্যা দাবি, নির্বাচন‑সংক্রান্ত উত্তেজনা বাড়ে

মির্জা আব্বাস নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগকে মিথ্যা দাবি, নির্বাচন‑সংক্রান্ত উত্তেজনা বাড়ে

জাতীয় নাগরিক দল (JNP) ও বিএনপি (বিএনপি) এর প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মির্জা আব্বাসের মধ্যে তীব্র বিরোধের নতুন দিক প্রকাশ পেয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী দুজনই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একে অপরের ওপর অভিযোগ তুলেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনসংযোগে গিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি মির্জা আব্বাসের কর্মী‑সমর্থকদের দ্বারা শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। মির্জা আব্বাসের দল এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে খারিজ করে এবং তা ভোটারদের সহানুভূতি অর্জনের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অনুষ্ঠিত এক সভার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। উপস্থিত ১১‑দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়, যা তাকে শারীরিক আঘাতের ঝুঁকিতে ফেলেছিল। পরে তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের কর্মী‑সমর্থকরা তাকে আক্রমণ করে তার নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জনসংযোগে গিয়ে এই অভিযোগের তীব্র প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কথাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কেবল ভোটারদের সিম্প্যাথি অর্জনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। মির্জা আব্বাসের মতে, ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি সমর্থকদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর সরাসরি হামলার রেকর্ড নেই।

মির্জা আব্বাস আরও যুক্তি দেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সংঘাত বাড়াতে নানা উসকানি দিচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো প্রকারের নির্বাচন‑ভণ্ডুলের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তার কর্মীদের শান্ত থেকে নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের মতে, নির্বাচন জাতীয় নাগরিক দলের জন্য বহু বছর পরের স্বপ্নের ফল, যা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে। তাই নির্বাচনের ফলাফলকে বদলানোর কোনো কারণ নেই, তিনি জোর দিয়ে বলেন।

মির্জা আব্বাস নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক দল) নেতার বিশাল আকারের রঙিন পোস্টার নির্বাচনী এলাকায় দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যিনি পূর্বে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ১৯৭৭ সালে তিনি এই এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন এবং পরবর্তীতে বহুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় জনগণ তাকে চেনে এবং তিনি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান।

প্রার্থী নিজে পোস্টার ও ব্যানারের বদলে মানুষের হৃদয় জয় করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের মন জয় করাই মূল লক্ষ্য, কেবল প্রচারমূলক সামগ্রী নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকা‑৮ আসনের জন্য উভয় দলই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দায়ের করেছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মির্জা আব্বাসের মধ্যে তীব্র বিতর্ক নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় প্রার্থীই নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দাবি করছেন যে, তারা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জয়লাভ করবেন।

নির্বাচন কমিশনকে এখন উভয় পক্ষের অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিরোধের সমাধান না হলে ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

অবশেষে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, এই উত্তেজনা উভয় দলের প্রচার কৌশলকে প্রভাবিত করবে এবং ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল কেবল দুজন প্রার্থীর জন্য নয়, পুরো জাতীয় নাগরিক দল ও বিএনপির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে। তাই পরবর্তী সপ্তাহে উভয় দলের কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর রাখা জরুরি, যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments