বাংলাদেশ সরকার মেটার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ড্যাভোস, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিরতিতে বৈঠক করে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা রোধের কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে।
এই বৈঠকটি ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে, গত সপ্তাহে ড্যাভোসে অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত, মেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বৈঠকে উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কীভাবে মেটা রিয়েল‑টাইমে ভুয়া তথ্য শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে পারে, তা মূল আলোচনার বিষয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রাক‑প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ এবং চলমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকে সহিংসতা উসকে দেয়া কোনো পেজ সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার প্রস্তাবও উঠে আসে। এ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের প্রোটোকল বর্তমানে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং মেটা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে।
লুৎফে সিদ্দিকী আরও জানান, প্রোটোকল চূড়ান্ত হওয়ার পর মেটার শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টির সম্পূর্ণ সচেতনতা প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত টুল ও রিয়েল‑টাইম তথ্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি অতিরিক্ত বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে প্রোটোকলের বিশদ বিষয় এবং বাস্তবায়নের ধাপগুলো আরও আলোচনা হবে।
এ পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় টুল নিয়ে কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে অথবা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব টুলের মাধ্যমে ভুয়া তথ্যের দ্রুত সনাক্তকরণ ও সংশোধন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ড্যাভোসে লুৎফে সিদ্দিকী পেপ্যালের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পেপ্যালের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সেবা চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং বাজারে প্রবেশের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানান।
বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি ব্রিফিংয়ে লুৎফে সিদ্দিকী এই সব বিষয় উপস্থাপন করেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন এবং বৈঠকের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।
এই সমন্বয়মূলক উদ্যোগের লক্ষ্য হল নির্বাচনের সময় ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধ করে, ভোটারদের সঠিক তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকার প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সচেষ্ট।



