আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) চিফ এক্সিকিউটিভ সঞ্জয় গুপ্ত ১৪ দিন আগে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্কটল্যান্ডের দলকে অল্প সময়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে, যদিও স্পনসর, জার্সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনও অমীমাংসিত।
স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ট্রুডি লিন্ডব্লেড জানান, “এত কম সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের জার্সি হাতে পেলে তা একটি অতিরিক্ত সুবিধা হবে, না হলে পুরো বছর জার্সি পরে খেলা হবে এবং তা বিশ্বকাপের জন্য যথাযথ নয়।” তিনি যোগ করেন, স্পনসর পাওয়া যাবে কিনা এখনো অনিশ্চিত, তবে হাতে মাত্র সাত দিন বাকি আছে, তাই কতটুকু করা সম্ভব তা এখনই দেখা হবে।
লিন্ডব্লেড উল্লেখ করেন, “আমরা কখনো এভাবে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হতে চাইনি। বিশ্বকাপের নির্দিষ্ট বাছাই পদ্ধতি আছে, আর আমরা এইবারের অংশগ্রহণকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ফল হিসেবে দেখছি।” তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে, তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে।”
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) থেকে ১৯৯২ সালে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পর, স্কটল্যান্ড ১৯৯৪ সালে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট সদস্য হয়। ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট এখনও সীমিত সম্পদে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে কোচ, উন্নয়ন কর্মী এবং প্রশাসনিক স্টাফসহ মোট ৩০ জনের কিছু বেশি কর্মী দলকে চালাচ্ছেন।
লিন্ডব্লেডের মতে, “ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের দলটি বড় নয়; কোচ, উন্নয়ন কর্মী এবং সংস্থার কর্মী মিলিয়ে এই সংখ্যাই। একসঙ্গে দুইটি দলকে বিদেশে পাঠাতে হলে কাজের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।” বর্তমানে স্কটল্যান্ডের অর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের দল এবং নারী দল নেপালে রয়েছে, এবং উভয় দিকের দায়িত্ব সামলাতে হবে।
স্কটল্যান্ডের এই অপ্রস্তুত অবস্থার মধ্যে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, তবে আইসিসি কর্তৃক দেওয়া সুযোগের ফলে তারা শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে একটি অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন এনেছে, যেখানে স্কটল্যান্ডের ছোট দলকে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যত দ্রুত সম্ভব স্পনসর এবং জার্সি ব্যবস্থা করে দলকে প্রস্তুত করতে কাজ করবে। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সত্ত্বেও, স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট সংস্থা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



