বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ২০০১‑২০০৬ সালের তার নিজস্ব সরকারে অন্তর্ভুক্ত দুইজন মন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করেনি। তিনি দলের বিরুদ্ধে আরোপিত দুর্নীতি‑চ্যাম্পিয়ন লেবেলকে চ্যালেঞ্জ করে, ঐ সময়ের মন্ত্রীরা কেন সরকারে থেকে গেছেন তা ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সকাল ৪টা ৩ মিনিটে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান মঞ্চে উঠে সমর্থকদের স্বাগত জানিয়ে, তারেকের বক্তব্যের প্রস্তুতি নেয়া হয়। উভয়েই উপস্থিত ভিড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, র্যালির শুরুর টোন নির্ধারণ করেন।
বক্তব্যের মাঝপথে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের মঞ্চে উপস্থাপন করেন, তাদেরকে ধানের শীষের প্রার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে তিনি উপস্থিত জনতাকে সালাম জানিয়ে, এরপর ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে তার বক্তব্য সমাপ্ত করেন এবং গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তারেক রহমানের মূল যুক্তি ছিল, ঐ দুই মন্ত্রী পদত্যাগ না করার কারণ ছিল তারা জানত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দায়িত্বে আসেন, তখন থেকে দেশের দুর্নীতি হ্রাস পেতে শুরু করে, যা আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশের দুর্নীতির মাত্রা উচ্চ ছিল বলে উল্লেখ করে, তৎকালীন শাসনকালে দুর্নীতির প্রবাহ অব্যাহত থাকলেও, ২০০১ সালের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পেতে শুরু করে। এই পরিবর্তনকে তিনি তার দলের সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিরোধী দল, যাকে তিনি “আজকের দল” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যারা বিএনপিকে দুর্নীতির দায়ে দোষারোপ করছে, তাদের এই অভিযোগকে তিনি মিথ্যা বলে খণ্ডন করেন। তিনি বলেন, ঐ দলের সদস্যদের নিজস্ব দুই মন্ত্রী সরকারে পুরো মেয়াদ জুড়ে কাজ করে থাকায়, তাদের দাবিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসত্য হয়ে দাঁড়ায়।
তারেক রহমানের বক্তৃতায় তিনি দলীয় কর্মীদের ভোটের দিন কীভাবে আচরণ করা উচিত তা নিয়ে নির্দেশনা দেন। তিনি বলছেন, ভোটের দিন তহাজ্জুদদের নামাজে অংশ নিতে হবে, তারপর কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে এবং ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে।
ভোটের পর ফলাফলকে “কড়া‑গণ্ডা” ভাবে বিশ্লেষণ করার গুরুত্ব তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভোটের ফলাফলকে বদলাতে না পারে। তিনি ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল কর্মীর সতর্কতা ও তদারকি প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে, তিনি সমর্থকদের শোভা ও কোদাল (শক্তি) নিয়ে আসতে বলছেন। তিনি নিজেও ঐ দিন উপস্থিত থাকবেন এবং ভোটের পর “খাল খনন” কর্মসূচিতে আবার মিলিত হবেন, যা সম্ভবত তার দলের নতুন পরিকল্পনা নির্দেশ করে।
স্লোগানে স্লোগানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের আগমনের স্বাগত জানিয়ে, “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম” ও “আগামী দিনের প্রধ” (বাক্যাংশের অসমাপ্তি) বলে উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছেন।
এই র্যালি এবং তারেকের বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি তার বিরোধী দলের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য সমর্থকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চেয়েছে। ভোটের দিন পার্টির কর্মীরা কীভাবে আচরণ করবে, ফলাফল কীভাবে গৃহীত হবে, এবং ধানের শীষের প্রতীকে ভোটের প্রভাব কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলো ফেলবে।



