ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) – জিরো পয়েন্ট এলাকার কাছাকাছি সন্ধ্যাবেলায় এক ৩২ বছর বয়সী মালয়েশিয়া ভিত্তিক প্রবাসী অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। কামরুল ইসলাম নামের এই যুবককে পথচারীরা রাস্তায় শুয়ে থাকা অবস্থায় লক্ষ্য করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা কল করেন। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছান, যেখানে চিকিৎসা কর্মীরা তাকে তৎক্ষণাৎ সেবা প্রদান করেন।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা কামরুলের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, তার শারীরিক ক্ষতি এবং মানসিক আঘাতের ব্যাপারে চিকিৎসকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। রোগীকে প্রাথমিকভাবে রক্তচাপ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা দল রোগীর অজ্ঞান হওয়ার কারণ নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষার পরিকল্পনা করেছে।
কামরুলের সঙ্গে থাকা এক সহযাত্রী, আমিনুল ইসলাম, জানান যে তিনি একই সকালে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছেছিলেন। তিনি গ্রাম বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য একটি বাসে চড়ে গিয়েছিলেন এবং পথে অজানা ব্যক্তিদের দ্বারা নেশাজাতীয় কিছু খাবার খাওয়ানো হয়। খাবার গ্রহণের পর কামরুল হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায় এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ, টাকা-পয়সা এবং অন্যান্য সামগ্রী চুরি হয়ে যায়।
প্রতারণা করা ব্যক্তিগণ তাকে জিরো পয়েন্টের এক নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীরা তৎক্ষণাৎ তার সাহায্য চেয়ে কল করে, ফলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন। স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাসপোর্টে উল্লেখিত নম্বর ব্যবহার করে তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদেরকে হাসপাতালে রোগীর অবস্থার তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রতারক চক্রটি কামরুলের ব্যাগে থাকা নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র সম্পূর্ণভাবে লুট করেছে। তার ব্যাগে থাকা পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য নথিপত্রও চুরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ধরনের চক্রে ভ্রমণকারীদের লক্ষ্য করে নেশাজাতীয় পদার্থ দিয়ে অচেতন করে তাদের সম্পদ চুরি করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত তথ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা বাসের ভেতরে বা নিকটবর্তী কোনো গোপন স্থানে কামরুলকে নেশাজাতীয় পদার্থ দিয়ে অচেতন করে, তার ব্যাগ থেকে নগদ অর্থ এবং অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে জিরো পয়েন্টের এক অন্ধকার গলিতে ফেলে রেখে যায়, যেখানে পথচারীরা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় খুঁজে পান।
পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তের জন্য জিরো পয়েন্টের নিকটবর্তী সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির রেকর্ডও যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া, নেশাজাতীয় পদার্থের নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অপরাধীরা কামরুলের সব সম্পদ লুট করেছে এবং তার পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, মামলাটি সংশ্লিষ্ট জিরো পয়েন্ট থানা-ইনস্পেকশনে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে অচেতন করা এবং চুরি করা উভয়ই গুরত্বপূর্ণ অপরাধের মধ্যে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, অপরাধীরা দণ্ড, জরিমানা এবং অপরাধের গুরুতরতা অনুযায়ী কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারে। পুলিশ বর্তমানে এই চক্রের অন্যান্য সম্ভাব্য শিকারদের সনাক্ত করার জন্য তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসী ও ভ্রমণকারীদের জন্য এই ধরনের ঘটনা সতর্কতা হিসেবে কাজ করা উচিত। বিশেষ করে বিদেশ থেকে ফিরে আসা বা বিদেশে যাওয়ার সময়, অজানা ব্যক্তির খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকা এবং ব্যাগে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া, যেকোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়া উচিত।
এই ঘটনার পর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা দল কামরুলের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক পুনর্বাসনের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, শীঘ্রই তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট প্রদান করা হবে।
প্রতিবেদন শেষ।



