ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ঢাকা শহরের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার কর্মসূচি ও আসন্ন গণভোটের জন্য ইউরোপীয় সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে। এই সাক্ষাৎকারের সময়, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়।
বৈঠকে মাইকেল মিলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার পরিকল্পনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কথা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, বাংলাদেশ সরকারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।
মিলার উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং আসন্ন গণভোটের প্রস্তুতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এ নির্বাচন মনিটরিং করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রক্রিয়ায় একটি টিম ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, বৈঠকের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে ইতিবাচক। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করবে, যার মধ্যে ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটদান প্রক্রিয়া এবং ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা অন্তর্ভুক্ত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষক দলটি বৃহৎ আকারের এবং বহু দেশের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত। দলটি দেশের বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত থাকবে, যাতে ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়। এই উদ্যোগটি পূর্বে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চালু করা পর্যবেক্ষণ মিশনের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আসন্ন গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন স্তরে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম উন্নয়ন, ভোটার তালিকার আপডেট এবং ডিজিটাল ভোটিং মেশিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এই সংস্কারগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের গতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক রীয়াজের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন কেবল পর্যবেক্ষণ দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সহযোগিতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে। এ ধরনের সমর্থন বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
মাইকেল মিলার, বৈঠকের সমাপ্তিতে, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও দৃঢ় হবে।” এই মন্তব্য ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রকল্পের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
সারসংক্ষেপে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়ে, পর্যবেক্ষক দল ইতোমধ্যে দেশে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এই সমর্থন দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে এবং আসন্ন গণভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।



