পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রাক্তন স্পিনার সাকলেইন মুশতাক একান্ত সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাবকে মানবতার বিরোধী হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি যদি ক্রীড়া থেকে দূরে না রাখা হয় তবে তা কেবল খেলাটিই নয়, পুরো মানব সমাজের ক্ষতি করে।
সাকলেইন বলেন, “রাজনীতি নির্মূল করা দরকার, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকারক।” তিনি আরও যোগ করেন, “ক্রিকেটের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতিগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা, না যে সেগুলোকে আলাদা করা।” তার মতে, খেলাটিকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত, যুদ্ধের ময়দানে রূপান্তরিত করা নয়।
ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি ২০১২-১৩ মৌসুমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সিরিজে তিনটি ওডিআই ও দুইটি টিটি২০ ম্যাচ খেলা হয়; টিটি২০ সিরিজটি ১-১ সমানভাবে শেষ হয়, আর ওডিআই সিরিজে পাকিস্তান ২-১ দিয়ে জয়লাভ করে। সেই পর থেকে দুই দল কেবল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে, যেমন এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপে শেষবার ভারত সফর করে। তবে গত বছর পাহালগাম, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকার পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো ম্যাচকে “তৃতীয় মাটি”তে—অর্থাৎ ভারত অথবা নিরপেক্ষ বিদেশি ভেন্যুতে—খেলার নীতি গ্রহণ করে, পাকিস্তানে নয়। এই নীতি এখনো কার্যকর রয়েছে।
সাকলেইন জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটকে বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে রক্ষা করা উচিত, না যে তা রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে রূপান্তরিত হয়। তিনি বাংলাদেশকে ভারতীয় মাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন, কারণ তিনি স্পষ্টভাবে রাজনীতিকে ক্রীড়া থেকে আলাদা রাখার পক্ষে।
তবে তার মন্তব্যের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আসন্ন টিটি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ভারত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ২০২৬ আইপিএল স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাদ দেওয়া।
আইসিসি পরবর্তীতে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে প্রতিস্থাপন করেছে। এই পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নীতি অনুসারে নেওয়া হয়েছে, তবে অঞ্চলীয় সম্পর্কের জটিলতা আবার প্রকাশ পেয়েছে।
সাকলেইনের মন্তব্যের মূল বার্তা স্পষ্ট: ক্রিকেটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা মানবতার ক্ষতি করে এবং ক্রীড়ার মূল মর্মকে ক্ষুন্ন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেট শুধুমাত্র আনন্দের উৎস হবে এবং জাতিগুলোর মধ্যে সেতু গড়ে তুলবে, না যে বিভাজনের কারণ হবে।



