ঢাকার মগবাজারে জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েব-আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন নিকটে আসায় জামায়াত-এ-ইসলামির মহিলা কর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ করে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং এ কারণে প্রধান প্রতিপক্ষের আক্রমণ বাড়ছে।
তাহের বলেন, “নির্বাচন খুব নিকটে এবং এ নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামির মহিলারা খুবই সক্রিয়। আমাদের মহিলারা স্ব-স্ব এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করছেন, একই সঙ্গে পুরুষ কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের নারী ভোটারগণ শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করে না, ফলে তারা জামায়াত-এ-ইসলামিকে বেশি ভোট দিতে পারে।”
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি বিভিন্ন জেলায় নারীদের ওপর শারীরিক হামলা, অপমান, হেনস্থা এবং সামাজিক লাঞ্ছনার ঘটনা রেকর্ড করেছে। তাহের উল্লেখ করেন, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, লালমনিরহাট এবং ভোলায় লালমোহনের রামগঞ্জ ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নারী কর্মীরা মারধর, হুমকি এবং লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। তিনি এসব ঘটনার জন্য বিএনপি এবং তার যুবদলকে দায়ী করেন।
তাহেরের মতে, এই ধরনের আক্রমণ নারীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে ভীতিকর করে তুলতে পারে। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, যাতে নারীদের ওপর সংঘটিত সব ধরনের হিংসা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হয়, দোষীদের দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশেষ করে নির্বাচনী কর্মসূচিতে নারী কর্মীদের জন্য আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি করেন।
তাহেরের দাবি তালিকায় আরও রয়েছে, নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচার বন্ধ করতে রাষ্ট্রকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি নারীরা নিরাপদ বোধ না করে, তবে তাদের অংশগ্রহণই সীমিত হবে এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এই বিবৃতি প্রকাশের পর জামায়াত-এ-ইসলামির বিভিন্ন শাখা থেকে একই রকম মন্তব্য শোনা যায়। তারা বলছে, নারী কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, তাদের ওপর হিংসা ও লাঞ্ছনা বাড়ার ফলে দলীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দলটি দাবি করে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করবে, যাতে নারী কর্মীরা নির্ভয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
বিএনপি ও তার যুবদল থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, নারীর নিরাপত্তা বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে নারী ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের কার্যকারিতা এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।
সামগ্রিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামির নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণকে রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে দলটি নিরাপত্তা, তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।



