ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম (IFFR) টিগার প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার মোজাম্বিকের লেখক‑নির্দেশক ইক লাঙ্গার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “দ্য প্রফেট” (O Profeta) বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করবে। গল্পটি পাস্টর হেল্ডারের জীবনকে কেন্দ্র করে, যিনি বিশ্বাসের অবনতি অনুভব করে জাদু‑বলি এবং ত্যাগের পথে অগ্রসর হন। চলচ্চিত্রের মূল প্রশ্ন হল, অজানা দরজা খুললে কি ফলাফল হয়, তা দর্শকের সামনে তুলে ধরা হবে।
চলচ্চিত্রটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত এবং সম্পূর্ণ কালো‑সাদা রঙে চিত্রায়িত, যা গল্পের অন্ধকারময় পরিবেশকে জোরালোভাবে প্রকাশ করে। অভিনয়কারী দলটি পেশাদার নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দা ও অ-প্রফেশনাল অভিনেতা নিয়ে গঠিত, যা বাস্তবতার স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।
অভিনয়কারী তালিকায় রয়েছে আদমিরো দে লৌরা মুনগাম্বে, নোরা মাতাভেল, আলেকজান্ড্রে মাসনাডো কোয়ানা, ভেন্যান্সিও জাইমে লাঙ্গা, আর্মান্ডো জোসে মাকাভে এবং ইয়ারা বংগা। প্রত্যেকের মুখে গ্রামের দৈনন্দিন জীবনের ছাপ স্পষ্ট, যা চরিত্রের গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন দেনিলসন পোম্বো, সম্পাদনা কাজ করেছেন সারা কার্নেইরো, আর প্রোডাকশন ডিজাইন নিজেই লাঙ্গা পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বিক্রয় লুমিনালিয়া সংস্থা পরিচালনা করছে, যা চলচ্চিত্রকে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
লাঙ্গা এই প্রকল্পের ধারণা তার নিজের শৈশবের গ্রাম থেকে পেয়েছেন, যেখানে তিনি ছোটবেলা কাটিয়েছেন এবং তার পিতার জন্মস্থানও একই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোজাম্বিকের গ্রামাঞ্চলে পাস্টরদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা তার কল্পনাকে উস্কে দিয়েছে।
একটি সাক্ষাতে তিনি লক্ষ্য করেন, এক সময় একটিমাত্র গির্জা ছিল, দুই মাস পর তিনটি, আর ছয় মাস পর সাতটি গির্জা একই এলাকায় উদ্ভূত হয়েছে। গ্রামটি এত ছোট যে এই গির্জাগুলো পাঁচ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত, যা সামাজিক পরিবর্তনের তীব্রতা প্রকাশ করে।
চলচ্চিত্রের মূল থিমগুলো হল সন্দেহ, অন্ধকার এবং “ঝলমলে বস্তু”‑এর প্রতি আকর্ষণ, যা আধুনিক সমাজে আত্মিক নেতাদের প্রভাবকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে। লাঙ্গা “দরজা খুলে ফেললে ফলাফল কী হতে পারে” এই প্রশ্নকে কেন্দ্রীয় ধারণা হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
শিল্পী তার সৃষ্টিতে ট্রান্সসেন্ডেন্টাল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ, মোজাম্বিকের ঐতিহ্যবাহী শিল্প এবং পাস্টরদের অতিরিক্ত ক্ষমতার গুজবকে একত্রিত করেছেন। এই উপাদানগুলোকে কালো‑সাদা রঙের মাধ্যমে দৃশ্যমান করে, দর্শকের মনোযোগকে গল্পের মূল বার্তায় কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে।
ব্ল্যাক‑অ্যান্ড‑হোয়াইট শৈলীর ব্যবহার কেবল নান্দনিক নয়, এটি চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সমাজের দ্বিধা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। পাস্টরের বিশ্বাসের পতন ও পুনরুদ্ধারের পথে তার অন্ধকারময় যাত্রা চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ভাষায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
রটারডামের টিগার প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চ, যেখানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসী বিষয়বস্তুকে স্বাগত জানানো হয়। “দ্য প্রফেট” এই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মোজাম্বিকের সামাজিক বাস্তবতা ও চলচ্চিত্রশিল্পের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরবে।
যদি আপনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে আগ্রহী হন এবং সমসাময়িক সমাজের প্রশ্নগুলোকে শিল্পের মাধ্যমে অন্বেষণ করতে চান, তবে রটারডাম ফেস্টিভ্যালে এই চলচ্চিত্রটি দেখার সুযোগ নিন। এছাড়া, মোজাম্বিকের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় গতিবিদ্যা সম্পর্কে আরও জানার জন্য স্থানীয় সংবাদ ও বিশ্লেষণ অনুসরণ করা উপকারী হবে।



