ব্রিটিশ একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন (বাফ্টা) ২০২৬ সালের চলচ্চিত্র পুরস্কার নোমিনেশন মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে। নোমিনেশন তালিকায় মোট ১৪টি চলচ্চিত্রের নাম অন্তর্ভুক্ত, যেখানে পল থমাস অ্যান্ডারসনের রাজনৈতিক থ্রিলার সর্বোচ্চ ১৪টি নোমিনেশন পেয়েছে। রায়ান কুগ্লারের গভীর দক্ষিণের হরর চলচ্চিত্র ১৩টি নোমিনেশন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই নোমিনেশনগুলো ২২ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে অনুষ্ঠিত বাফ্টা পুরস্কার অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
বাফ্টা সিইও জেন মিল্লিচিপ ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিল্পের বিভিন্ন দিককে সমর্থন করে আসছেন। তিনি নোমিনেশন ঘোষণার সময় উল্লেখ করেছেন যে এই বছরের চলচ্চিত্রগুলো “সাহসী, শক্তিশালী, অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং অনন্য গল্পবর্ণনা” নিয়ে গঠিত। বিশেষ করে সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে সক্রিয়তা, কৃষ্ণ পরিচয় এবং দুর্নীতির সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি কাজগুলোকে তিনি প্রশংসা করেছেন। কুগ্লার যে বিষয়টি এই শৈল্পিক ফিল্মে তুলে ধরেছেন, তা তিনি “বহুল বিনোদনমূলক জঁরার মধ্যে গভীর সামাজিক বার্তা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মিল্লিচিপ আরও উল্লেখ করেন যে কিছু চলচ্চিত্র আরও অন্তরঙ্গ ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি হয়েছে। তিনি “হ্যামনেট”, “আই স্বেয়ার”, “সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু” ইত্যাদি চলচ্চিত্রকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলছেন, এই বছরটি দৃঢ় স্বাদ ও চমৎকার বর্ণনার সমাহার। “হ্যামনেট” চলো জাওয়ের পরিচালনায় তৈরি, যা নারী পরিচালকের সর্বোচ্চ নোমিনেশন রেকর্ড গড়ে তুলেছে। এই চলচ্চিত্র মোট আটটি নোমিনেশন পেয়ে ইতিহাস রচনা করেছে, যা পূর্বে কোনো নারী পরিচালক অর্জন করেননি।
নোমিনেশন তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের দুইটি চলচ্চিত্রও রয়েছে। পল থমাস অ্যান্ডারসনের রাজনৈতিক থ্রিলার এবং রায়ান কুগ্লারের হরর ফিল্ম উভয়ই বাফ্টা পুরস্কারের সবচেয়ে বড় রাতের জন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও “মার্টি সুপ্রিম” এবং “হ্যামনেট” প্রত্যেকটি ১১টি করে নোমিনেশন পেয়েছে, যা তাদের শিল্পগত মানকে তুলে ধরে।
বাফ্টা পুরস্কার অনুষ্ঠানটি লন্ডনের গ্লেনফিল্ড রোডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, পরিচালক, অভিনেতা ও নির্মাতারা একত্রিত হবেন। এই অনুষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্পের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে গণ্য হয় এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের দৃষ্টিকোণেও গুরুত্বপূর্ণ। নোমিনেশন ঘোষণার পর থেকে শিল্পের ভক্ত ও সমালোচকরা এই বছরের তালিকাকে “বৈচিত্র্যময় ও সাহসী” হিসেবে প্রশংসা করছেন।
বাফ্টা ২০২৬ নোমিনেশনগুলো চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ ও সামাজিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে। সক্রিয়তা, বর্ণগত পরিচয় ও দুর্নীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রচেষ্টা শিল্পের দায়িত্বশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রের জন্ম দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাফ্টা পুরস্কার অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালীন, শিল্পের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে কিভাবে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন আনা যায়। নোমিনেশন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত চলচ্চিত্রগুলো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, যেখানে গল্পের গঠন, চরিত্রের গভীরতা এবং দৃশ্যমানতা সবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাফ্টা ২০২৬ নোমিনেশন ঘোষণার পর থেকে, চলচ্চিত্র প্রেমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। লন্ডনের এই বিশাল ইভেন্টে কোন চলচ্চিত্রটি সেরা পুরস্কার জিতবে, তা নিয়ে পূর্বাভাস ও বিশ্লেষণ চলছে। তবে মিল্লিচিপের মন্তব্য অনুসারে, এই বছরের চলচ্চিত্রগুলো তাদের অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসিকতার জন্য ইতিমধ্যে স্বীকৃত হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, বাফ্টা ২০২৬ নোমিনেশনগুলো শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সক্রিয়তা, কৃষ্ণ পরিচয় ও দুর্নীতির মতো থিমকে কেন্দ্র করে তৈরি চলচ্চিত্রগুলোকে সম্মানিত করা হয়েছে, এবং নারী পরিচালকের সর্বোচ্চ নোমিনেশন রেকর্ডও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে এই সব কাজের সাফল্য দেখা যাবে, যা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও সমৃদ্ধ করবে।



