মেইন অঙ্গরাজ্যের ব্যাংগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শীতকালীন তুষারঝড়ের মাঝখানে একটি বেসরকারি জেট বিমান ধসে যায়, ফলে সাতজনের প্রাণ শেষ এবং আরেকজন গুরুতরভাবে আহত হয়। দুর্ঘটনা স্থানীয় সময় সোমবার রাত আটটার দিকে ঘটেছে, যখন বিমানটি হিউস্টন থেকে উড্ডয়ন করে পুনরায় প্যারিসের পথে রওনা হতে চাচ্ছিল।
বিমানটি হিউস্টন থেকে রওনা হওয়ার পর, জ্বালানি পূরণের উদ্দেশ্যে ব্যাংগরে অবতরণ করে, তারপর তুষারঝড়ের মধ্যে আবার উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের মুহূর্তে পাখা ও ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয় বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বিমানকে মাটিতে ধাক্কা খাওয়ায়।
মৃত্যুজনিত শিকারদের মধ্যে ৪৬ বছর বয়সী প্রখ্যাত আইনজীবী আর্নল্ড, জ্যাকব হোসমার এবং শওনা কলিন্স অন্তর্ভুক্ত। হোসমার ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ‘আর্নল্ড-ইটকিনে’ নামের আইন সংস্থায় কাজ করছিলেন এবং তার পেশাগত সাফল্য দেশের আইনি ক্ষেত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
বিমান দুর্ঘটনায় আরেকজন যাত্রী গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে; তার অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান। উদ্ধারকাজের সময় স্থানীয় জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের ত্বরিত সেবা প্রদান করে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর, ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। উভয় সংস্থা বিমান রেকর্ডার, রাডার তথ্য এবং আবহাওয়া ডেটা বিশ্লেষণ করে কারণ নির্ধারণের দিকে অগ্রসর হবে।
শীতঝড়ের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বহু অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে; এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ত্রিশজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আট লক্ষের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তুষার ও হিমশীতল বাতাসের কারণে রাস্তায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ফলে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে।
বিমান চলাচলেও বিশাল ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে; ফ্লাইট ট্র্যাকার ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়ার’ অনুযায়ী সোমবার প্রায় পাঁচ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ কারণে ভ্রমণকারীদের বড় অসুবিধা হয়েছে এবং এয়ারলাইনগুলোকে জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তুষারঝড়ের কারণে অন্তত পঁচিশটি অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ ইংল্যান্ডের বেশ কিছু অংশে তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে, যেখানে মধ্য ও পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকা ইতিমধ্যে তুষারপাত থেকে মুক্তি পেয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় রাস্তায় আইসের স্তর গঠিত হয়েছে, যা গাড়ি চালানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তদুপরি, বিদ্যুৎ সংস্থাগুলোকে গ্রাহকদের নিরাপদে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করতে হয়েছে।
আইনি দিক থেকে, দুর্ঘটনা ঘটার পর সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা এবং বিমানের মালিককে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। যদি কোনো নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও নাগরিক দায়িত্ব আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
আসন্ন সপ্তাহে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে; সেই প্রতিবেদন অনুসারে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা নিয়মাবলীর পরিবর্তন প্রস্তাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে, শিকার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতঝড়ের কারণে সৃষ্ট বিশাল মানবিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি মোকাবিলায় ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলো একত্রে কাজ করছে। জরুরি সেবা, বিদ্যুৎ সংস্থা এবং পরিবহন বিভাগ একসাথে সমন্বয় করে প্রভাবিত জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধারে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।



