23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপ্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তিন পার্বত্য জেলায় ই‑লার্নিং উদ্বোধন

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তিন পার্বত্য জেলায় ই‑লার্নিং উদ্বোধন

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম‑বিষয়ক তিনটি পার্বত্য জেলায় মোট বারোটি বিদ্যালয়ে ই‑লার্নিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দূরবর্তী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট‑ভিত্তিক শিক্ষাসেবা প্রদান করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপদেষ্টা শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষক‑শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ই‑লার্নিং ব্যবস্থার ব্যবহারিক দিকগুলো তুলে ধরেন।

প্রথম পর্যায়ে রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল‑আমিন নূরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল এবং বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট বারোটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই‑লার্নিং সেবা চালু করা হয়।

উদ্বোধনের সময় সরকার জানিয়েছে যে, শীঘ্রই পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচিত ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই এই সিস্টেম চালু হবে। লক্ষ্য হল প্রথম ধাপে ৩,৫০০টি স্কুলে ই‑লার্নিং বিস্তৃত করা, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীই অনলাইন শিক্ষার সুবিধা পায়।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম‑বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম‑বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সকল কর্মকর্তাই ই‑লার্নিং প্রকল্পের গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, দেশের বেশিরভাগ অংশে ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার রয়েছে, তবে পার্বত্য অঞ্চলে এখনও তা পৌঁছায়নি। এই ঘাটতির জন্য সরকার দায়ী এবং তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আজ মাত্র বারোটি স্কুলে শুরু করা হলেও দ্রুতই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য জেলাগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ, তবে যোগাযোগের দুর্বলতা ও অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষকদের সেখানে কাজ করতে অনিচ্ছুক। ই‑লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এখন দেশের যেকোনো কোণ থেকে শীর্ষস্থানীয় শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারবে, ফলে শিক্ষক ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান হ্রাস পাবে না।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বে কী ঘটছে তা জানার সুযোগও শিক্ষার্থীদের হাতে থাকবে, যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়াবে। উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।

ই‑লার্নিং প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের অনলাইন শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহারিক দিকগুলো শিখতে উৎসাহিত করা জরুরি। আপনি কি আপনার সন্তানকে ই‑লার্নিং প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করে বাড়িতে থেকেই নতুন বিষয় শিখতে সাহায্য করবেন? আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে পার্বত্য শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments