অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ২১ বছর বয়সী আমেরিকান টেনিস তারকা কোকো গফ, ইউক্রেনের এলিনা স্বিটোলিনার হাতে ৬-১, ৬-২ স্কোরে পরাজিত হয়ে গেম শেষ করেন। ম্যাচটি মাত্র ৫৯ মিনিটে শেষ হওয়ায় গফের জন্য তা এক কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।
গফের পারফরম্যান্সে পাঁচটি ডাবল ফল্ট, ২৬টি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি এবং মাত্র তিনটি উইনার দেখা যায়, যা তার সেবা ও র্যালি গেমে সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। স্বিটোলিনা, ১২তম সিড, ধারাবাহিকভাবে ব্রেক পয়েন্ট ব্যবহার করে গফকে কঠিন করে তুলেছিলেন।
খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এলাকা থেকে টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্যে গফ র্যাকেট ভেঙে ফেলতে দেখা যায়। যদিও তিনি কোর্টে সরাসরি র্যাকেট না ভেঙে, তবে ক্যামেরা দলটি তার এই মুহূর্তটি রেকর্ড করে প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার পর গফ প্রকাশ্যে বললেন, তিনি ক্যামেরা থেকে দূরে গিয়ে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এমন জায়গা খুঁজতে চেয়েছি যেখানে ক্যামেরা না থাকে।”
গফের কথায় ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের একটি অনুরূপ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন আর্যনা সাবালেনকা ফাইনালে পরাজয়ের পর র্যাকেট ভেঙে ফেলেছিলেন। গফ বলেন, “সেই সময়ও একই রকম দৃশ্য ঘটেছিল, এবং আমি মনে করি এ ধরনের মুহূর্তগুলো সম্প্রচার করা দরকার নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই টুর্নামেন্টে আমাদের একমাত্র গোপনীয় স্থান হল লকার রুম।” এভাবে গফ খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য টুর্নামেন্টের আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
গফ ব্যাখ্যা করেন, র্যাকেট ভাঙা তার দলের প্রতি কোনো রাগ প্রকাশের জন্য নয়, বরং নিজের আবেগ মুক্ত করার একটি উপায়। তিনি বলেন, “আমি চাই না আমার টিমের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তাই আমি কোর্টে না করে অন্য জায়গায় এই রাগ প্রকাশ করি।”
স্বিটোলিনা পরবর্তী রাউন্ডে বিশ্ব নম্বর এক আর্যনা সাবালেনকার সঙ্গে মুখোমুখি হবেন, যিনি আইভা জোভিককে ৬-৩, ৬-০ স্কোরে পরাজিত করে ফাইনালে অগ্রসর হয়েছেন। এই ম্যাচটি স্বিটোলিনার জন্য প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সেমি-ফাইনাল হবে।
গফ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর আগে ধারাবাহিকভাবে তিন সেটের ম্যাচ জিতেছিলেন, তবে স্বিটোলিনার শক্তিশালী খেলায় তিনি কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। স্বিটোলিনা সাতটি ব্রেক পয়েন্টের মধ্যে ছয়টি ব্যবহার করে গফকে দ্রুত পরাজিত করেন।
গত সিজনে গফ সর্বোচ্চ ৪৩১টি ডাবল ফল্ট করে, যা অন্য সব খেলোয়াড়ের চেয়ে ১৩১টি বেশি। এই পরিসংখ্যানের পর তিনি তার সেবা উন্নত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
গফের এই অভিজ্ঞতা টেনিস জগতে খেলোয়াড়ের মানসিক চাপ ও গোপনীয়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার সূচনা করেছে, এবং ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের আয়োজকরা কীভাবে ক্যামেরা নীতি পরিবর্তন করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



