মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গত সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে চোখ বন্ধ করে বসে থাকা অবস্থায় দেখা যায়। উপস্থিত স্টাফ ও উপদেষ্টারা এটিকে শোনার জন্য নেওয়া একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, আর ট্রাম্প নিজে পরে এই ঘটনার ভিন্ন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেন।
বৈঠকটি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে পূর্বে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের পরই তিনি কোনো ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারটি নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া হয়েছিল এবং তাতে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ স্বাভাবিকতা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বৈঠকের সময় ট্রাম্পের চোখ বন্ধ থাকা ও কখনো কখনো মাথা ঝুঁকে থাকা লক্ষ্য করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে জানান, এটি মনোযোগ দিয়ে শোনার একটি পদ্ধতি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিটও একই ব্যাখ্যা দেন, যুক্তি দেন যে এই ভঙ্গি বক্তার কথায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করে।
বৈঠকের কয়েক মিনিট পর হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফ স্পষ্ট করেন যে ট্রাম্প আসলে ঘুমাচ্ছেন না, বরং কখনো সামনে, কখনো পেছনে হেলিয়ে বসে থাকেন, চোখ বন্ধ করে নোট নেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই কোলের ওপর নোট রাখে, ফলে এই ভঙ্গি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
ট্রাম্পের নিজের বিবরণে তিনি ডিসেম্বরের একটি ক্যাবিনেট বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ২৮ জন সদস্যের সঙ্গে দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় বসে ছিলেন। তিনি বলেন, বৈঠকটি তার জন্য বিরক্তিকর ছিল এবং তিনি হাত নাড়িয়ে উপস্থিতদের মনে করিয়ে দিতেন যে তিনি শোনছেন, যদিও মনের মধ্যে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
হাতের নখে দাগের প্রশ্নে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তা কেবল মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর ফলে হয়েছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, নেভি ক্যাপ্টেন শন বারবাবেলাও এই ব্যাখ্যাকে সত্য বলে নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প তার পিতার স্বাস্থ্য সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তার বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ১৯৯৯ সালে ৯৩ বছর বয়সে মারা গেছেন এবং ৮৬ বা ৮৭ বছর বয়সে একটি স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ না করলেও, স্টাফরা জোর দিয়ে বলেন যে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের কোনো গুরুতর সমস্যা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের উপর চলমান আলোচনা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বর্তমান প্রশাসন এই উদ্বেগগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্বাস্থ্যের এই ধরনের দৃশ্যমানতা ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও নেতৃত্বের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে, বিশেষত ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে। তাই এই বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



