২৭ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকা-৮ আসনের জাতীয় নাগরিক দল প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনী সফরের সময় ডিম নিক্ষেপের শিকার হন। একই সময়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ প্রচারমূলক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ডিম নিক্ষেপের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করে মির্জা আব্বাসকে সরাসরি দায়ী করেন। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস তার দলের কিছু লোককে ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছেন এবং এভাবে সন্ত্রাসী কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া তিনি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি থেকে মির্জা আব্বাসকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এই ঘটনার বিচার জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে এই ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে।
জাতীয় নাগরিক দলের নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম উল্লেখ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন, যেখানে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, নাহিদ ইসলাম ঘটনাটিকে “খুবই দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করে, এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিতে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, মঞ্চে মির্জা আব্বাস ভাল কথা বললেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে চান। তিনি এই ধরনের কৌশলকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন।
তিনি নির্বাচন কমিশনকে এই ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এবং কলেজ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বিএনপি দলীয়ভাবে কী পদক্ষেপ নেবে তা জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাহাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে নষ্ট করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকাশ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ভোটারদের এই ধরনের হিংসা-হুমকির মোকাবেলা করার সুযোগ থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে। তবে সব সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভোটারদের হাতে থাকবে।



