28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাযশোর বিমানবন্দরে বোমা‑সদৃশ বস্তুসহ নিরাপত্তা মহড়া সম্পন্ন

যশোর বিমানবন্দরে বোমা‑সদৃশ বস্তুসহ নিরাপত্তা মহড়া সম্পন্ন

যশোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ‑২০২৬’ শিরোনামে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ১০ জন যাত্রীসহ যশোরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে, তবে উড্ডয়নের দশ মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনে বোমা থাকার সতর্কতা জানানো হয়।

এই সতর্কতা পাওয়া মাত্রই বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে অবহিত করা হয়, এবং পুরো বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার সক্রিয় করা হয় এবং বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা দ্রুত সমন্বয় করে কাজ শুরু করে।

বিমানটি অবতরণ করার পর নিরাপত্তা দল তৎক্ষণাৎ বিমানকে ঘিরে ফেলেছে। যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে আনার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত এক যাত্রী অতিরিক্ত আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হেলিকপ্টারে করে ঢাকা হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এই চিকিৎসা ব্যবস্থা মহড়ার অংশ হিসেবে পূর্বেই পরিকল্পনা করা ছিল।

বিমানবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তল্লাশি চালিয়ে বিমানের ভেতর থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করে। আধুনিক রোবোটিক টেলিস্কোপিক ম্যানিপুলেটরের সাহায্যে সেটি নিরাপদে অপসারণ এবং নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ডগ স্কোয়াড পুরো বিমান পুনরায় তল্লাশি করে কোনো অবশিষ্ট ঝুঁকি না থাকলে মহড়া সমাপ্তি ঘোষণা করে।

মহড়ার সমাপ্তি পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বেবিচকের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই এবং ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মহড়া বিমানবন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করলেও, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা মানের উন্নতি করে গ্রাহক আস্থা বাড়াবে বলে আশা করা যায়। এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো স্থানীয় ক্যারিয়ারগুলোকে নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণের ফলে নিরাপত্তা সেবা শিল্পে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। রোবোটিক বোমা নিষ্ক্রিয়করণ, ডগ স্কোয়াড এবং রেড অ্যালার্ট সিস্টেমের ব্যবহার স্থানীয় সরবরাহকারীদের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যবসায়িক সুযোগ পাবে।

যশোর বিমানবন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে কাজ করে; তাই নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রকাশ পেলে আন্তর্জাতিক ও গৃহস্থালি যাত্রীদের আস্থা ক্ষয় হতে পারে। এই মহড়া সম্ভাব্য ঝুঁকি সনাক্ত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সুনাম রক্ষা করেছে এবং ভবিষ্যতে রুট রিডাকশন বা ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি কমাবে।

বিমানবন্দরের পরিচালন ব্যয় সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে নিরাপত্তা প্রোটোকল শক্তিশালী হওয়ায় বীমা প্রিমিয়াম হ্রাস এবং দুর্ঘটনা-সম্পর্কিত আর্থিক ক্ষতি কমে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। এছাড়া, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য সরকারী ও বেসরকারি তহবিলের প্রবাহ বাড়বে, যা সংশ্লিষ্ট শিল্পের মোট উৎপাদন বাড়াবে।

দ্বি-বার্ষিকভাবে অনুষ্ঠিত এই ধরনের মহড়া দেশের বিমানবন্দর নেটওয়ার্কে মানসম্মত নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর প্রযুক্তি, যেমন ড্রোন নজরদারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক হুমকি সনাক্তকরণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এভাবে যশোর বিমানবন্দর এবং সমগ্র সিভিল এভিয়েশন সেক্টর আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments