লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইবুনালে ভ্যালভ কর্পোরেশনকে যুক্তরাজ্যের গেমারদের জন্য অনন্যভাবে উচ্চ দামের অভিযোগে £৬৫৬ মিলিয়ন ক্ষতিপূরণ দাবি করা একটি মামলায় অগ্রসর হতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মামলাটি গেমিং শিল্পের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন স্টোর, স্টিমের মূল্য নির্ধারণ নীতির ওপর কেন্দ্রীভূত এবং ২০২৪ সালে ডিজিটাল অধিকার কর্মী বিকি শটবোল্টের নেতৃত্বে দায়ের করা হয়। অভিযোগের মূল বিষয় হল ভ্যালভের বাজারে আধিপত্য ব্যবহার করে গেম প্রকাশকদের ওপর সীমাবদ্ধ শর্ত আরোপ করা এবং ব্যবহারকারীদের স্টিমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। এই প্রক্রিয়ার ফলে যুক্তরাজ্যের গেমাররা অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শটবোল্টের দল ১৪ মিলিয়ন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্টিম ব্যবহারকারীকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং সফল হলে তারা সম্মিলিতভাবে ক্ষতিপূরণ পেতে পারে। এই ধরনের সমষ্টিগত মামলা একক ব্যক্তি আদালতে বৃহৎ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দায়ের করা হয়, যা গ্রাহক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। মামলাটি ২০১৮ সাল থেকে স্টিম বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে গেম বা অতিরিক্ত কন্টেন্ট ক্রয়কারী সকল ব্যবহারকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ভ্যালভের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ট্রায়াল পর্যায়ে না নিয়ে যাওয়ার জন্য আপিল করা হয়েছিল, তবে ট্রাইবুনাল মামলাটিকে অনুমোদন করে তা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ভ্যালভের আইনগত দল যুক্তি দিয়েছিল যে শর্তগুলো ন্যায়সঙ্গত এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অংশ, তবে ট্রাইবুনাল এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে মামলাটিকে অগ্রসর হতে দিয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে ভ্যালভ গেম প্রকাশকদেরকে এমন চুক্তিতে বাধ্য করে যেখানে তারা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে গেমটি আগে বা কম দামে বিক্রি করতে পারে না। এছাড়া, ব্যবহারকারী যদি স্টিমের মাধ্যমে মূল গেমটি কিনে নেয়, তবে অতিরিক্ত কন্টেন্ট (ডিএলসি) ক্রয়ের জন্যও স্টিমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা ব্যবহারকারীর বিকল্পকে কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই ধরনের শর্তগুলোকে বাজারে একচেটিয়া অবস্থান ব্যবহার করে গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুন্ন করা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্টিমের কমিশন হারকে মামলায় প্রধান অভিযোগের একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভ্যালভ গেম বিক্রয় ও ডিএলসির ওপর সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত কমিশন ধার্য করে, যা যুক্তরাজ্যের গেমারদের জন্য অতিরিক্ত খরচের কারণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সমালোচকরা বলেন, এই উচ্চ কমিশন গেমের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রাহকের পকেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
মামলাটি ১৪ মিলিয়ন ব্যবহারকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যাঁরা ২০১৮ থেকে স্টিম বা অন্যান্য ডিজিটাল গেম স্টোরের মাধ্যমে গেম বা অতিরিক্ত কন্টেন্ট কিনেছেন। এই সময়কালে স্টিমের ব্যবহারকারী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বড় হতে পারে। শটবোল্টের দল এই ব্যবহারকারীদের জন্য সমষ্টিগতভাবে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
মামলাটিকে সমর্থনকারী আইন সংস্থা হল মিলবার্গ লন্ডন এলএলপি, যা বড় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট ২০২৪-এ ভ্যালভের বিরুদ্ধে একটি ভোক্তা অধিকার মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভ্যালভের ব্যবসায়িক নীতির ওপর প্রশ্ন তুলছে।
ভ্যালভ ১৯৯০-এর দশকে হাফ-লাইফ সহ বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত গেমের নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। ২০০৩ সালে স্টিম চালু করার পর থেকে এটি পিসি গেমিংয়ের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল বিতরণ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়েছে। স্টিমের মাধ্যমে গেম ডাউনলোড, আপডেট এবং ডিএলসি ক্রয় করা গেমারদের জন্য একটি একক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে, যা গেমের বিক্রয় পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।
VG Insights অনুযায়ী, স্টিমে বর্তমানে ১৯,০০০ টিরও বেশি গেম উপলব্ধ, যা গেমারদের জন্য বিশাল পছন্দের সুযোগ প্রদান করে। তবে এই বিশাল লাইব্রেরি এবং একক প্ল্যাটফর্মের আধিপত্যই ভ্যালভের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত অভিযোগের মূল ভিত্তি।
এই মামলার ফলাফল গেমিং শিল্পের ভবিষ্যৎ নীতিমালার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ভ্যালভকে উচ্চ কমিশন এবং একচেটিয়া শর্তের জন্য দায়ী করা হয়, তবে অন্যান্য ডিজিটাল স্টোরগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক মডেল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে, গেম প্রকাশকদের জন্য বিকল্প বিক্রয় চ্যানেল উন্মুক্ত হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গেমারদের জন্য কম দামের সুবিধা নিয়ে আসতে পারে।
মামলাটির অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত রায় গেমিং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা রাখে, যা গেমার, ডেভেলপার এবং স্টোর উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।



