পঞ্চগড়ের আটোয়ারি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও শাপলা কলি-জাতীয় নাগরিক দল জোটের পঞ্চগড়‑১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম নতুন স্বৈরাচারকে বাধা দিতে দল একতাবদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব ও জুলাই সনদের বাস্তবায়নকে দেশের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের মূলধারারূপে তুলে ধরেন।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, ন্যূনতম শিক্ষা ও জ্ঞান ছাড়া মানুষকে বিভ্রান্ত করা কিছু গোষ্ঠী নতুন স্বৈরাচার গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে ৭১ থাকবে না—এই থাকবে না, ওই থাকবে না। এ ধরনের মন্তব্য করা মানুষদের ন্যূনতম জ্ঞান ও শিক্ষা নেই।” এভাবে তিনি ভোটারদের সচেতনতা ও তথ্যের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন, স্বৈরাচারী চিত্রের বিপরীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করা দরকার।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি দেশের শহীদদের ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন। “এই নতুন বাংলাদেশটি এক হাজারেরও বেশি শহীদের জীবনের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে। অসংখ্য মানুষ রক্ত ঝরিয়েছে এখানে,” তিনি বলেন, এবং যুক্তি দেন যে এই ত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নেওয়া।
সারজিস আলমের মতে, জুলাই সনদের বাস্তবায়নই দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার চাবিকাঠি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই সংস্কারটি হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে, আর এর জন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোট প্রয়োজন।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা গড়ে তুলতে চাওয়া গোষ্ঠী গণভোটকে বাতিল বা অব্যাহত না রাখার চেষ্টা করবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ক্ষুণ্ন করবে।
প্রার্থী আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কখনোই নতুন স্বৈরাচারকে অনুমোদন দিতে পারি না। দেশের স্বার্থ ও জনগণের মঙ্গলের জন্য যদি আমরা সিস্টেমের সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমতা বজায় রাখতে চাই, তবে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের বিকল্প নেই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১১ দলীয় জোট ও শাপলা কলি একসাথে “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
সারজিস আলমের বক্তব্যের পর, উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে তিনি সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যান, তাদের স্থানীয় সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের মতামত ও চাহিদা সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হলে গণভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই র্যালি শেষে, সারজিস আলম পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব এবং ১১ দলীয় জোট ও শাপলা কলি একত্রে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।” তিনি শেষ করেন, “এটাই আমাদের একমাত্র পথ, অন্য কোনো বিকল্প নেই।”
সারজিস আলমের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়: স্বৈরাচারী চেতনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং দেশের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোটই একমাত্র সঠিক পদক্ষেপ।



