অস্ট্রেলিয়ার রক ব্যান্ড হুডু গুরুস জানুয়ারি ২৬ তারিখে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এক নেশন পার্টির অস্ট্রেলিয়া ডে র্যালিতে তাদের কোনো গান বাজানো হয়েছে বলে তারা গভীরভাবে অস্বস্তি বোধ করছে। ব্যান্ডের সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, তারা পার্টি ও তার সমর্থকদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না এবং তাদের সঙ্গীতের ব্যবহারকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছে।
বিবৃতিতে ব্যান্ডের প্রতিনিধিরা অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে পলিন হ্যানসনের মতামতকে “বিষাক্ত” বলে বর্ণনা করে, এবং উল্লেখ করেছেন যে, তারা হ্যানসনের বক্তব্যে সর্বদা বিরক্তি প্রকাশ করেছে। এছাড়াও তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তারা পার্টি ও তার সমর্থকদের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা সমর্থন করতে ইচ্ছুক নয়।
ব্যান্ডের বার্তায় এক নেশন পার্টি ও তার সমর্থকদের সরাসরি আহ্বান করা হয়েছে যে, হুডু গুরুসের গান আর বাজানো যাবে না, তাদের সঙ্গীত শোনা যাবে না এবং পার্টির কার্যক্রমে তাদের সৃষ্টিকে ব্যবহার করা যাবে না। এই আহ্বানকে তারা কঠোরভাবে অগ্রাহ্য করা হলে পার্টি তাদের প্রতি কোনো সম্মান দেখাবে না, এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা শিল্পীদের সৃষ্টির অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ে বাড়তে থাকা বিতর্কের একটি নতুন উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া ডে—যা অনেকের কাছে “ইনভেশন ডে” হিসেবেও পরিচিত—এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমাবেশে সঙ্গীতের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শিল্পীরা তাদের কাজের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করতে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের সৃষ্টিকে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে চায়।
অস্ট্রেলিয়ার জনমত গোষ্ঠী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ২৬ জানুয়ারি দিনটি ক্রমশ বিভাজনমূলক হয়ে উঠছে। অনেকেই এই দিনটিকে উপনিবেশিক শাসনের ক্ষতিকর প্রভাবের স্মারক হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং তাই ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি “ইনভেশন ডে” নামে উদযাপন করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে সঙ্গীতের ব্যবহারকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহার করা আরও সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুডু গুরুসের পাশাপাশি, মেন অ্যাট ওয়ার্কের গায়ক কলিন হে-ও সাম্প্রতিক সময়ে একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হে উল্লেখ করেছেন যে, তার ব্যান্ডের স্বাক্ষর গীত “ডাউন অন্ডার” অননুমোদিতভাবে অ্যান্টি-ইমিগ্রেশন প্রতিবাদে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই গানটি তার দৃষ্টিতে বহুমুখিতা, অন্তর্ভুক্তি এবং ঐক্যের প্রতীক, এবং তা কোনো জাতিগত বৈষম্য বা ভয়ভীতি ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
হে তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো সংগঠন যদি তার সৃষ্টিকে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য ব্যবহার করতে চায়, তবে তাদের নিজস্ব সঙ্গীত রচনা করা উচিত, অন্যের কাজকে দখল করা নয়। এই ধরনের প্রকাশনা শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি, সঙ্গীতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করে।
হুডু গুরুস ও কলিন হে উভয়েরই এই অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গীত শিল্পে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায়: শিল্পীর অনুমতি ছাড়া সৃষ্টির ব্যবহার করা ন্যায়সঙ্গত নয়, বিশেষ করে যখন তা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকে। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমাবেশে সঙ্গীতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি বা নির্দেশিকা গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত, শিল্পীরা তাদের সৃষ্টির স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সক্রিয়ভাবে আওয়াজ তুলছে, যা সঙ্গীতের সাংস্কৃতিক মূল্যকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



