28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগভর্নর আহসান মনসুর ব্যবসায়ী সংগঠনকে পুতুলের মতো সমালোচনা, সুদহার ও অর্থপাচার বিষয়ক...

গভর্নর আহসান মনসুর ব্যবসায়ী সংগঠনকে পুতুলের মতো সমালোচনা, সুদহার ও অর্থপাচার বিষয়ক মন্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (ICCB) আয়োজন করা রাউন্ডটেবিল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে পুতুলের মতো আচরণ করার অভিযোগ তুলে সুদহার নির্ধারণ ও অর্থপাচার সংক্রান্ত তাদের নীরবতা সমালোচনা করেন।

সমাবেশটি আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (ICCB) এর সভাপতি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং লো‑ডেভেলপড কান্ট্রি (এলডিসি) থেকে উত্তরণ সংক্রান্ত মতবিনিময় করেন।

গভর্নর উল্লেখ করেন, যখন সুদহার ৬ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তালি দিয়েছিল। তবে একই সময়ে যখন ২০ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার প্রকাশ পায়, তখন তারা নীরব থাকে বলে তিনি সমালোচনা করেন।

এমন আচরণ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বললেন। তিনি যুক্তি দেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন সীমাবদ্ধ থাকবে।

আহসান এইচ মনসুর উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ একসাথে হতে হবে। ছোট সুবিধার জন্য বড় সুবিধা ত্যাগ করা যায় না, তাই নীতি নির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা জরুরি।

ICCB বাংলাদেশের সহসভাপতি ও হা‑মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ মুদ্রানীতি সংকোচনশীল হওয়ায় সুদহার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই নীতি কর্মীসংখ্যার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

আজাদের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রা সংকোচনের ফলে ইতিমধ্যে ১২ লাখ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন এবং পরবর্তী ছয় মাসে অতিরিক্ত ১২ লাখ কর্মী বেকারত্বের মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া বিনিয়োগের প্রবাহ কমে গিয়েছে এবং রাজস্ব সংগ্রহ হ্রাস পেয়েছে।

সরকারের এলডিসি সংক্রান্ত নীতি নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন, বলেন বর্তমান সরকারকে যথাযথভাবে শোনানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার যুক্তি তুলে ধরতে হবে।

গভর্নর আবার উল্লেখ করেন, সুদহার বাংলাদেশে বেশি, তা স্বীকার্য। তবে ২০ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার এবং এর ফলে বেড়ে যাওয়া খেলাপি ঋণকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, না হলে সুদহার কমবে না।

অমানতের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, পরে ১১ শতাংশে ফিরে এসেছে; এই পরিবর্তন সুদহারের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তিনি জোর দেন, সুশাসন ও তদারকি শক্তিশালী হলে সুদহার স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে।

মোনিটরি নীতি ও গ্রাহক আস্থার উন্নতি মূল্যস্ফীতি হ্রাসে সহায়তা করবে, এ কথায় তিনি সমাপ্তি টানেন। খেলাপি ঋণ হ্রাস পেলে ব্যাংকিং সিস্টেমের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং ঋণগ্রহীতাদের উপর চাপ কমবে।

শেষে আহসান এইচ মনসুর নিশ্চিত করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি মৌলিক প্রক্রিয়া এবং তা শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। ব্যাংকিং খাতকে এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে এবং নীতি প্রয়োগে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments