টোকিওর মিডটাউন স্কাইস্ক্র্যাপার কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এক ভিড়পূর্ণ সম্মেলনে নেটফ্লিক্স জাপানে তার ১১তম বছর উদযাপন করে সর্ববৃহৎ কন্টেন্ট তালিকা প্রকাশ করেছে। কোম্পানির জাপানি সৃজনশীল দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কাতা সাকামোতো উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন প্রকল্পের বিশদ জানিয়ে দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন।
প্রকাশিত তালিকায় মোট তেরোটি নতুন সিরিজ, আটটি অ্যানিমে শিরোনাম এবং তিনটি চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকল্পগুলোকে নেটফ্লিক্সের স্থানীয় কন্টেন্টের সবচেয়ে বড় সমাহার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিরিজগুলো বিভিন্ন ঘরানায় বিস্তৃত, যেখানে অ্যানিমে শিরোনামগুলোতে মূলত তরুণ দর্শকদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
তাছাড়া, নেটফ্লিক্স বিশ্ব বেসবল ক্লাসিকের পুরো ৪৭টি ম্যাচকে জাপানে সরাসরি সম্প্রচার করার অধিকার অর্জন করেছে। এই লাইভ কভারেজে শোহেই ওতানি ও ইয়োশিনোবু ইয়ামামোটোর মতো জাতীয় নায়কদের অংশগ্রহণ থাকবে। বেসবল প্রেমিকদের জন্য এটি একটি বড় আকর্ষণ, কারণ পূর্বে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের পূর্ণাঙ্গ লাইভ কভারেজ বিরল ছিল।
নেটফ্লিক্সের জাপানি বাজারে অবস্থান তৃতীয় বৃহত্তম বিনোদন বাজারের অংশ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে স্ট্রিমিং সেবার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও বিশাল। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদিও বাজারে ইতিমধ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে, তবু নেটফ্লিক্সের স্থানীয় কন্টেন্টে বিনিয়োগ তার বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে পারে।
এই বছরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল টোহো স্টুডিওসের সঙ্গে নতুন উৎপাদন চুক্তি। নেটফ্লিক্স টোহো স্টুডিওসের ভাড়া করা উৎপাদন স্থান দ্বিগুণ করে, ফলে বছরে পনেরোটি পর্যন্ত লাইভ-অ্যাকশন শিরোনাম তৈরি করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই চুক্তি স্থানীয় স্টুডিও অবকাঠামোর সীমিততা মোকাবেলায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টোহো স্টুডিওস জাপানের অন্যতম পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণ সংস্থা, যার সঙ্গে নেটফ্লিক্সের সহযোগিতা স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভা ও আন্তর্জাতিক মানের সংমিশ্রণ ঘটাবে। চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার ফলে উচ্চমানের স্ক্রিপ্টেড ও নন-স্ক্রিপ্টেড প্রকল্পে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হবে।
নেটফ্লিক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বছর টোহো স্টুডিওসের শুটিং সেটে তৈরি হওয়া শীর্ষস্থানীয় শিরোনামগুলো জাপানি দর্শকদের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও প্রচারিত হবে। স্টুডিও স্পেস এবং শীর্ষ প্রতিভার ঘাটতি সত্ত্বেও, নেটফ্লিক্সের এই পদক্ষেপ স্থানীয় শিল্পের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত তালিকায় বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ‘হিউম্যান ভ্যাপর’ শিরোনামের রিবুট, যা টোহো স্টুডিওসের ক্লাসিক সাই-ফাই আইপি-কে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করবে। এই প্রকল্পে কোরিয়ান পরিচালক ইয়ন স্যাং-হো, যিনি ‘ট্রেন টু বাসান’, ‘হেলবাউন্ড’ এবং ‘প্যারাসাইট: দ্য গ্রে’ এর জন্য পরিচিত, প্রযোজক ও লেখক হিসেবে যুক্ত আছেন।
ইয়ন স্যাং-হো’র অংশগ্রহণের ফলে সিরিজটি বৃহৎ স্কেল জঁর ইভেন্টের রূপ নেবে এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য জাপানি বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে। নেটফ্লিক্স এই রিবুটকে স্থানীয় সৃজনশীল ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও গল্প বলার পদ্ধতির সঙ্গে মিশ্রিত করার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
লাইভ বেসবল কভারেজের ক্ষেত্রে, শোহেই ওতানি ও ইয়োশিনোবু ইয়ামামোটোর মতো জাতীয় নায়কদের অংশগ্রহণ দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ যোগ করেছে। উভয় খেলোয়াড়ই জাপানের বেসবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন এবং তাদের উপস্থিতি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে স্পোর্টস কন্টেন্টের চাহিদা বাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, নেটফ্লিক্সের এই বৃহৎ কন্টেন্ট ঘোষণা জাপানি বাজারে তার অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উৎপাদন স্থান বৃদ্ধি, উচ্চমানের শিরোনাম ও লাইভ স্পোর্টসের সংযোজন নেটফ্লিক্সকে স্ট্রিমিং সেবার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আলাদা করে তুলবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জাপানি গল্প বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।



