জাতি‑ধর্মের স্বীকৃতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলি রিয়াজ মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানটি ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, মনির হায়দার এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
আলি রিয়াজ সানাতন ধর্মাবলম্বী জনগণকে সরাসরি সম্বোধন করে বলেন, যদি বহু জাতিগোষ্ঠী ও বহু ধর্মের স্বীকৃতি সংবিধানে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তবে প্রত্যেকের দায়িত্ব ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে জাতীয় সংহতি ও সমতার ভিত্তি মজবুত হবে এবং ভবিষ্যতে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষিত থাকবে।
সভায় রিয়াজের বক্তব্যের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের ‘পাহাড় ও সমতলের ভাগ করার রাজনীতি’ বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদ ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের সমতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যা সংবিধানের সংস্কারকে কেবল ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বাইরে নিয়ে যায়। রিয়াজের মতে, ধর্ম পালনের অধিকার, ভাষাগত অধিকার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সুরক্ষা সবই এই সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত।
বহু জাতি‑ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশে এই ধরনের সংবিধানিক স্বীকৃতি না থাকলে দেশের সম্ভাব্য উন্নয়ন ও সামাজিক সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, রিয়াজ সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে স্পষ্ট স্বীকৃতি না থাকলে জাতীয় ঐক্য ও সমন্বয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।
গণভোটের প্রচারাভিযান চলাকালীন কিছু গোষ্ঠী থেকে বিভাজনমূলক ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে রিয়াজ বিশেষভাবে সতর্ক করেন। তিনি ভোটারদের অনুরোধ করেন, যে কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আগে জুলাই জাতীয় সনদটি নিজে পড়ে দেখার পরামর্শ দেন। এভাবে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আলোচনার শেষে রিয়াজ উল্লেখ করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংবিধানে বহু জাতি‑ধর্মের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং দেশের সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি যোগ করেন, এই সংস্কার সফল হলে ভবিষ্যতে জাতীয় নীতি ও আইন প্রণয়নে অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি তৈরি করবে এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সরকারকে বাধ্য করবে। একই সঙ্গে, ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নতুন আলোচনার সূচনা হবে।
অবশেষে, রিয়াজের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, গণভোটের সাফল্য নিশ্চিত করতে সকল ধরণের প্রচার ও তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি ভোটারদের আহ্বান করেন, ভোটের আগে নিজে তথ্য যাচাই করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে। এই আহ্বান দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যের বার্তা বহন করে, যা সংবিধানে স্পষ্ট স্বীকৃতি পেলে আরও শক্তিশালী হবে।



