স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট দল শেষ মুহূর্তে আইসিসি অনুমোদন পেয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ায়, র্যাঙ্কিংয়ে ১৪তম স্থান থাকা স্কটল্যান্ডকে আইসিসি স্বল্প সময়ের মধ্যে সুযোগ প্রদান করে। স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড নিশ্চিত করেছেন, ভিসা, জার্সি এবং স্পন্সর সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মাঝেও ভারতীয় সফরে কোনো বিলম্ব হবে না।
বাংলাদেশের প্রত্যাহার মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ফলে ঘটেছিল, যখন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচের স্থান ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর প্রস্তাব আইসিসি প্রত্যাখ্যান করে। আইসিসি এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকার করে, ফলে শূন্যস্থানটি স্কটল্যান্ডের কাছে যায়। এই পরিবর্তন টুর্নামেন্টের সূচি ও দলীয় গঠনকে প্রভাবিত করলেও, আইসিসি টুর্নামেন্টের মূল কাঠামো বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
র্যাঙ্কিংয়ে ১৪তম স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডকে আইসিসি স্বল্প সময়ের মধ্যে আমন্ত্রণ জানায়, যা দলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দেয়। স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড দ্রুতই ভিসা প্রক্রিয়া, জার্সি উৎপাদন এবং স্পন্সর সংগ্রহের কাজ শুরু করে। বিশেষ করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পেসার সাফিয়ান শরিফসহ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভিসা দ্রুত সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপে এই বাধা অতিক্রান্ত হয়েছে।
ভারতে দলীয় ভ্রমণের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া জটিলতা সত্ত্বেও, স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন সব খেলোয়াড়ের ভিসা সময়মতো সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে, নতুন জার্সি এখনও প্রস্তুত না হওয়ায় উৎপাদন সংস্থার সঙ্গে তীব্র সমন্বয় চলছে। জার্সি না থাকলে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, তাই এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে।
স্পন্সর সংকটও স্কটল্যান্ডের প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করেছে। টুর্নামেন্টের আগে বড় কোনো স্পন্সর যুক্ত করা কঠিন হলেও, বোর্ড দ্রুতই সম্ভাব্য স্পন্সরদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। স্পন্সরশিপের অভাব টিমের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করতে পারে, তাই তহবিল সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ট্রুডি লিন্ডব্লেডের মতে, “আমন্ত্রণ পেয়ে আমরা রোমাঞ্চিত, তবে পরিস্থিতি সত্যিই ব্যতিক্রমী ও চ্যালেঞ্জিং। তবুও সময়মতো সব খেলোয়াড়কে পাঠাতে পারব বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিসা, জার্সি এবং স্পন্সর সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধান করা সত্ত্বেও দলটি প্রস্তুতিতে কোনো ধাপ পিছিয়ে যাবে না। এই আত্মবিশ্বাস স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড় ও স্টাফের মনোবল বাড়িয়ে তুলেছে।
স্কটল্যান্ডের টুর্নামেন্ট সূচি অনুযায়ী, দলটি উদ্বোধনী দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্কটল্যান্ডের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ হবে। লিন্ডব্লেড নিশ্চিত করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
সামগ্রিকভাবে, স্কটল্যান্ডের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন, জার্সি উৎপাদন ত্বরান্বিত এবং স্পন্সর সন্ধান চলমান, সবকিছু মিলিয়ে দলটি টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। শেষ মুহূর্তে আইসিসি অনুমোদন পেয়ে স্কটল্যান্ডের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং টুর্নামেন্টের গতি-গতিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।



