টাঙ্গাইলের বাসাইল থানা অধিক্ষেত্রে বসাইলে একটি বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সী ঠান্ডু মিয়া ও ৭০ বছর বয়সী রিজিয়া বেগমের গৃহহত্যা ঘটেছে। গৃহহত্যার সঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণের অলংকার চুরি হওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করার পর প্রকাশ পায়।
মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে বাসাইলের গোসাখালি গ্রাম থেকে আসা ঠান্ডু মিয়া ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগমের। উভয়ের বয়স যথাক্রমে ৭৫ ও ৭০ বছর, এবং তারা স্থানীয় সমাজে সম্মানিত বয়স্ক দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই দিন আগে বোরো ধান চাষের কাজের জন্য কয়েকজন দিনমজুর বাড়িতে আনা হয়। শ্রমিকরা দম্পতির বাড়ির পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিল, যেখানে তারা রাতের খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা পেয়েছিল।
সোমবার রাতের দিকে দম্পতির নাতি শাকিল সিকদার শ্রমিকদের অস্বাভাবিক চলাফেরা লক্ষ্য করেন এবং সন্দেহের স্রোত শুরু হয়। তিনি রাতের শেষের দিকে বাড়ির দরজা খুলে দেখেন যে দরজা অর্ধেক খোলা রয়েছে, যা তাকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের প্রেরণা দেয়।
পরের সকালে শাকিল বাড়ির দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশের পর তিনি মেঝেতে শুয়ে থাকা ঠান্ডু মিয়া ও রিজিয়া বেগমকে দেখতে পান। দুজনেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।
বেসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির জানান, সোমবার রাতে দম্পতির বাড়িতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এসেছিল। রাতে ঠান্ডু মিয়ার পেটব্যথা হওয়ায় শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে থাকা ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৃতদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। মৃতদেহের অবস্থা এবং চুরি হওয়া সম্পদের তালিকা তদন্তের অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে শ্রমিকদের উপস্থিতি ও তাদের অস্বাভাবিক আচরণকে তদন্তের মূল দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই হিংস্র ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য দোষী ব্যক্তির সনাক্তকরণে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।



