তাংগাইলের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারীদের ব্যবহারিক শৌচাগারে লুকানো ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে ইন্টার্ন ডাক্তার রায়হান কবির এমনকে আজ আদালতে পাঁচ দিনের রিম্যান্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগটি প্রথমবার প্রকাশিত হয় যখন কিছু ছাত্র ও সহকর্মী শৌচাগারে অস্বাভাবিক যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করে। সংশ্লিষ্ট শৌচাগারটি শুধুমাত্র মহিলা ডাক্তার ও নার্সদের জন্য নির্ধারিত, যা বিষয়টিকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।
তাংগাইল সীনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব রিম্যান্ড আদেশ জারি করেন এবং আদালতের পরিদর্শক সজ্জাদ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন। রিম্যান্ডের সময়সীমা পাঁচ দিন নির্ধারিত, যার মধ্যে তদন্তের প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আদালত এছাড়াও রিম্যান্ডের শর্তে অভিযুক্তকে জেলখানায় স্থানান্তর করার অনুমোদন দেয়।
হাসপাতালের পরিচালক আবদুল কুদ্দুস গত রাত্রে তাংগাইল সদর পুলিশ স্টেশনে মামলাটি দায়ের করেন, যেখানে ইন্টার্ন ডাক্তারকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দায়েরকৃত অভিযোগে লুকানো ক্যামেরা স্থাপন, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং নারীদের নিরাপত্তা হুমকির উল্লেখ রয়েছে। পুলিশ স্টেশনটি তৎক্ষণাৎ তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়।
তাংগাইল সদর পুলিশ স্টেশনের সাব-ইনস্পেক্টর জাকারিয়া হোসেন আজ অপরাধীকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিম্যান্ডের আবেদন করেন। তিনি আদালতে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। রিম্যান্ডের আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন পেয়ে কার্যকর হয়েছে।
পুলিশ স্টেশনের ওসিআই রুহুল আমিনের মতে, কলেজের শিক্ষার্থীরা এমনকে লুকানো ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে চিহ্নিত করে, ফলে তদন্ত শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা শৌচাগারে অস্বাভাবিক বস্তু লক্ষ্য করার পর তা তৎক্ষণাৎ প্রশাসনের কাছে জানায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত মামলাটি রেজিস্টার করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
অভিযোগ প্রকাশের পর রাগান্বিত ইন্টার্ন ডাক্তাররা অভিযুক্তকে ও হাসপাতালের পরিচালককে একসাথে আটক করে রাখে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। ইন্টার্নদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্রোধের মিশ্রণ দেখা যায়, কারণ তারা নারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই সময়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করে এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথতা নিশ্চিত করে। উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়ে সম্ভাব্য হিংসাত্মক সংঘর্ষ রোধ করা হয়।
তীব্র প্রতিবাদে ভরা ইন্টার্নদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং রিম্যান্ডের শর্তে জেলখানায় স্থানান্তর করে। গ্রেফতারকালে কিছু ইন্টার্নের প্রতিবাদমূলক চিৎকার শোনা যায়, তবে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের রিপোর্ট নেই। গ্রেফতারকৃত রায়হান কবির এমনকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে এবং রিম্যান্ডের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি পাবে না।
ঘটনা প্রকাশের পর হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্রোধের স্রোত দেখা দেয়, যারা দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের দাবি জানায়। কর্মীদের মতে, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালের অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশে অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটলেও, সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে উদাহরণস্বরূপ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান কর্মীদের মধ্যে তীব্রভাবে শোনা যায়। তারা দাবি করে যে, এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া, ভবিষ্যতে শৌচাগারের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরবর্তী আদালত শুনানিতে রিম্যান্ডের সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়গুলো আলোচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আদালত রায়হান কবির এমনের বিরুদ্ধে প্রমাণের যথার্থতা যাচাই করার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই মামলাটি তাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তা নীতি ও কর্মপরিবেশের পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



