ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর মঙ্গলবার দুপুরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অনুষ্ঠিত পিঠা উৎসবে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং ভুয়া ভুয়া স্লোগান শোনা যায়, যা উপস্থিতি বিরোধের সূচনা করে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজের পিঠা উৎসবে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন এবং তিনি উপস্থিতি নিশ্চিত করার পর গেটের সামনে কলেজের কর্মীদের দ্বারা প্রবেশে বাধা আরোপ করা হয়। গেটের সামনে কিছু অংশগ্রহণকারী তাকে ঘিরে তীব্র চিৎকারের সঙ্গে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান উচ্চারণ করে, যা পরিস্থিতি উত্তেজিত করে।
প্রবেশে বাধা সত্ত্বেও ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ধাক্কা-ধাক্কি শুরু হয়। ডিমের ছিটা ছিটা গুলি এবং হাতের আঘাতের ফলে নাসীরুদ্দীন ও উপস্থিত কয়েকজনের পোশাক ভেজে যায়, তবে কোনো গুরুতর শারীরিক আঘাতের রিপোর্ট নেই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শক ও ছাত্রদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ দেখা যায়।
অবস্থার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশ দল ডিম নিক্ষেপকারী ও হিংসাত্মক অংশগ্রহণকারীদের আলাদা করে নিরাপদে নাসীরুদ্দীনকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেয় এবং অশান্তি দমন করে।
ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন মিডিয়ার সামনে বলেন, তার ওপর ডিম নিক্ষেপ করা এবং শারীরিক আক্রমণ করা কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের মাধ্যমে, এবং হিংসা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা উচিত নয়।
প্রার্থী আরও উল্লেখ করেন, তিনি সর্বোচ্চ ধৈর্য্য বজায় রাখছেন এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই শুরু হয়েছে, যা তিনি ভয় পাবেন না বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানান।
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হওয়ায় এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। নাসীরুদ্দীনের প্রার্থীতা ও তার দলীয় সমর্থনকারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ডিম নিক্ষেপকারী ও হিংসাত্মক অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। তারা সকল প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে।
এই ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশে শীতলতা বজায় রাখার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং নির্বাচনের পূর্বে জনসমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ হিংসা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভোটারদের স্বচ্ছ ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।



