ঢাকা, জাতীয় জাদুঘরের প্রধান অডিটোরিয়ামে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত রেফারেন্ডাম নিয়ে বিশেষ সহকারী প্রফেসর আলি রিয়াজের বক্তব্য শোনা গেল। তিনি রেফারেন্ডামের মূল প্রশ্নকে “বাংলাদেশি জনগণ কি বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায় নাকি ফ্যাসিবাদী প্রবণতা পুনরুজ্জীবিত হবে” হিসেবে তুলে ধরেন। এই আলোচনা হিন্দু (সনাতন) ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুগামীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোটারদের রেফারেন্ডাম সমর্থনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্য ছিল।
অডিটোরিয়ামে উপস্থিত ছিলেন সরকারী কর্মকর্তারা, বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তিনজনই রেফারেন্ডামের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং “না” ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলকে ফ্যাসিবাদী পুনরুত্থানের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রফেসর আলি রিয়াজ উল্লেখ করেন, পূর্বের ষোলো বছর ধরে শাসনকালে জনগণের মৌলিক অধিকার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ে অসংখ্য মানুষ মৌলিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে। রিয়াজের মতে, জুলাই ২০২৫ সালের জাতীয় চার্টার এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি স্পষ্ট পথ নির্দেশ করে।
মনির হায়দারও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট না আসে, তবে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে এবং তা থামাতে কেউ পারবে না”। হায়দার রেফারেন্ডামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অতিরিক্ত একত্রীকরণ রোধের এবং স্বায়ত্তশাসিত বিচারবিভাগ গড়ে তোলার গুরুত্বকে তুলে ধরেন।
জুলাই চার্টারটি বেশ কয়েকটি মূল সংস্কার প্রস্তাব করে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাধীন বিচারবিভাগের প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রী পদে সীমিত মেয়াদ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের গ্যারান্টি। এই ধারাগুলোকে রেফারেন্ডামের মাধ্যমে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করা হবে, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রফেসর রিয়াজ রেফারেন্ডামকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা নেতিবাচক প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রকে “পরাজিত শক্তি”র কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীগুলো ক্ষমতা বজায় রাখতে জনমতকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। রিয়াজ নাগরিকদের আহ্বান জানান, এই ধরনের প্রভাব থেকে উপরে উঠে সমতা, গৌরব ও ন্যায়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়তে রেফারেন্ডামে অংশগ্রহণ করতে।
মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেফারেন্ডামের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত ধারার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধারাগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সমাজে সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।
রেফারেন্ডামের ফলাফল দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুনামকেও প্রভাবিত করবে। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি রেফারেন্ডামে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো গৃহীত হয়, তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হবে এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধ হবে। অন্যদিকে, “না” ভোটের ফলে বর্তমান শাসনব্যবস্থার অব্যাহত থাকা এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতার উত্থান সম্ভাবনা বাড়বে।
রেফারেন্ডাম সম্পর্কে সরকারী পক্ষের শেষ মন্তব্যে বলা হয়েছে, ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনো ধরনের ভয় বা চাপের মুখে না এসে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিতে হবে। রেফারেন্ডামের ফলাফল ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর গণনা করা হবে এবং ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।



