23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাবিজ্ঞান ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সরকারকে আহ্বান

বিজ্ঞান ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সরকারকে আহ্বান

শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আয়োজিত কর্মশালায় বিজ্ঞান ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিজ্ঞানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কর্মশালাটি সরকারি গৃহের অর্থ বিভাগীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এবং ‘জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন শক্তিশালীকরণ: সাশ্রয়ী ও উচ্চ প্রযুক্তিগত সমাধানের ব্যবহার’ শিরোনামে উদ্বোধন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।

উদ্বোধনী সেশনে আন্তর্জাতিক উদারময় গবেষণা কেন্দ্রের ইমেরিটাস বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ফিরদৌসী কাদেরী, গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী এবং বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোবারক আহমদ খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাদের উপস্থাপনা দেশের গবেষণা কাঠামোর বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করে।

ড. আবরার কর্মশালার মূল বক্তব্যে জোর দেন, বিজ্ঞান শিক্ষার ভর্তি ও গবেষণা উভয়ই হ্রাসের প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা কোনো জাতির জন্যই স্বাভাবিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জিডিপির মাত্র ০.৩ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় যথেষ্ট কম এবং অনেক কম উন্নত দেশের চেয়েও নিচে রয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের ওপর তিনি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন প্রক্রিয়া ও সরকারি ক্লিয়ারেন্সের জটিলতা গবেষণার সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়, কখনো কখনো ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এই বিলম্বের ফলে তহবিলের অপচয় এবং সম্ভাব্য প্রকল্পের অগ্রগতি থেমে যায়।

গবেষণা ব্যবস্থাপনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য না রাখার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। যদিও জবাবদিহিতা বজায় থাকবে, তবে যেসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলভাবে গবেষণা পরিচালনা করে, তাদের জন্য দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

এলডিসি (কম উন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জের কথা বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য ও টিকাদান ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের প্রায় নব্বই শতাংশ ব্যয় বহন করতে হবে। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞান, গবেষণা এবং বিশেষায়িত ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ গঠনে বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই।

অবকাঠামো খাতের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে কম বিনিয়োগের সমালোচনা করে ড. আবরার বলেন, দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তোলা ছাড়া কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই হবে না। তিনি সরকারকে গবেষণা তহবিলের পরিমাণ দশগুণ বাড়িয়ে ৩০ কোটি থেকে ৩০০ কোটি টাকা করার আহ্বান জানান।

এই আহ্বানটি পরবর্তী সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গবেষণার জন্য দ্রুত অনুমোদন, স্বচ্ছ তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বাড়বে।

কর্মশালার শেষে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা ড. আবরারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করার জন্য যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব দেন।

বিজ্ঞান ও গবেষণার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠ্যক্রমে গবেষণা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা, ছাত্রছাত্রীদের গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণা তহবিলের ব্যবহার কীভাবে উন্নত করা যায়, অথবা গবেষণা অনুমোদন প্রক্রিয়ার কোন ধাপগুলো সবচেয়ে বেশি সময়সাপেক্ষ, এ নিয়ে আপনার মতামত শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments