28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকওমানের শ্রমমন্ত্রী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীর ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করার...

ওমানের শ্রমমন্ত্রী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীর ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করার আশ্বাস দেন

ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল‑বুসাইদি, রিয়াদ‑এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জানুয়ারি ২৭ তারিখের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন যে, আগামী দু’মাসের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করা হবে। এই ঘোষণা ওমানের গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর প্রকাশিত হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা ওমানের শ্রম বাজারে বাংলাদেশি কর্মীর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপদেষ্টা ড. আসিফ, অনিয়মিতভাবে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জরিমানা ছাড়া বৈধকরণে ওমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এই পদক্ষেপকে দু’পাশের শ্রম সহযোগিতার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

ওমানের শ্রমমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সাল থেকে অদক্ষ ও আধা‑দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে, অনিয়মিত ও অনডকুমেন্টেড কর্মীদের নিয়মিতকরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে, দুই মাসের মধ্যে ভিসা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা।

মন্ত্রীর বক্তব্যে বলা হয়েছে, বর্তমান অনিয়মিত কর্মীদেরকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের কাজের শর্তাবলী উন্নত করার জন্য একাধিক নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নতুন ভিসা প্রক্রিয়ায় দক্ষতা যাচাই, প্রাক‑বর্হিগমন প্রশিক্ষণ এবং গন্তব্য দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইন‑কানুনের উপর জোর দেওয়া হবে।

উপদেষ্টা ড. আসিফ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ও জবাবদিহি ভিত্তিক করার প্রস্তাব দেন। তিনি আইনি সংস্কার, দক্ষতা যাচাই প্রক্রিয়া এবং কর্মীর প্রেরণের পূর্বে প্রশিক্ষণকে মূল উপাদান হিসেবে তুলে ধরেন, যা শ্রমিকদের গন্তব্য দেশে দ্রুত একীভূত হতে সহায়তা করবে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রথমার্ধে মাস্কাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (JTC) পরবর্তী অধিবেশনের আহ্বান, যা উভয় দেশের শ্রম নীতি সমন্বয় ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে। এই কমিটি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, নীতি সমন্বয় এবং কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, দ্বিপাক্ষিক শ্রম সহযোগিতা জোরদার করার জন্য চূড়ান্ত করা সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের জন্যও ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্মারকটি কর্মীর নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মস্থল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে, যা উভয় দেশের শ্রমিকের কল্যাণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ওমানের শ্রম বাজারে পুনরায় প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে। ভিসা পুনরায় চালু হলে, অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং অনিয়মিত শ্রমিকদের সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়।

অঞ্চলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, ওমানের এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম নীতি পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে, গলফ অঞ্চলের অন্যান্য দেশও বিদেশি শ্রমিকের নিয়মিতকরণে সমান দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের চেষ্টা করছে, যা সামগ্রিকভাবে শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা উন্নত করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারও এই উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়ে, ওমানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কর্মীর নিরাপদ প্রেরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে, শ্রমিকের বৈধ অধিকার রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয় ভিসা পুনরায় চালু করার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও আবেদন পদ্ধতি প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, বাংলাদেশি শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ই প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments