28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি নারী শাখা ৩১ জানুয়ারি সুহরাওয়ার্ডি উদ্যানে র্যালি করবে

জামায়াত-এ-ইসলামি নারী শাখা ৩১ জানুয়ারি সুহরাওয়ার্ডি উদ্যানে র্যালি করবে

ঢাকায় ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০:৩০ টায় জামায়াত-এ-ইসলামি নারী শাখা সুহরাওয়ার্ডি উদ্যানের মাঠে একটি র্যালি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। র্যালির মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে নারীদের ওপর আক্রমণ ও হয়রানির প্রতিবাদ করা। এই র্যালি পার্টির নারীবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরবে।

র্যালির পরিকল্পনা আজ মঘবাজারে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নায়েব-এ-আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মাধ্যমে জানানো হয়। সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন যে পার্টির নারী কর্মীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী কাজের সময় শারীরিক আক্রমণ ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছে।

তাহেরের মতে, এই ধরনের ঘটনা কমপক্ষে নয়টি স্থানে ঘটেছে এবং প্রতিটি ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। তিনি বলেন, এই আক্রমণগুলো নারীদের ভোট সংগ্রহের ক্ষমতাকে হ্রাস করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। তাই র্যালির মাধ্যমে এই অনৈতিক আচরণকে জনসমক্ষে উন্মোচিত করা হবে।

জামায়াত-এ-ইসলামি নারী শাখা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পুরুষ কর্মীদের মতোই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় দরজায় দরজা গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, ভোট সংগ্রহের জন্য প্রচারণা চালায় এবং পার্টির নীতি ব্যাখ্যা করে। তাহের উল্লেখ করেন, নারীরা শান্তিপ্রিয় এবং অশান্তি বা উগ্রতাকে ঘৃণা করে, ফলে তারা পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠী গঠন করে।

তাহেরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় জামায়াত-এ-ইসলামি নারীদের সমর্থন সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি। তিনি বলেন, নারীরা পার্টির জন্য ভোটের বড় অংশ সরবরাহ করতে সক্ষম, বিশেষত গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে। এই কারণেই বিরোধী দলগুলো নারীদের ওপর আক্রমণ বাড়িয়ে তুলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাহেরের মতে, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পার্টির দায়িত্ব নয়, সমাজের সকল পুরুষেরই দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, যারা নারী অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলে, তারা এখন রাজনৈতিক স্বার্থে এই নারীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।

তাহেরের মন্তব্যে আরও উঠে আসে যে জামায়াত-এ-ইসলামি ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিতে গঠিত একটি রাজনৈতিক দল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পার্টি কোনো ‘ধর্মীয় ছদ্মবেশে’ ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করে না; তাদের কার্যক্রম সবসময় পার্টির কোড অব কন্ডাক্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে, তিনি উল্লেখ করেন, কমিউনিস্ট দল ভোট সংগ্রহের সময় তাদের মতাদর্শের নাম ব্যবহার করে, যা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ।

র্যালির সময়সূচি ও স্থান সম্পর্কে আবারও জোর দিয়ে বলা হয় যে, এটি সুহরাওয়ার্ডি উদ্যানের প্রধান প্রবেশদ্বারে সকাল ১০:৩০ টায় শুরু হবে এবং পার্টির নারী কর্মীরা সমাবেশে অংশগ্রহণ করবে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নারীদের সংখ্যা ও উপস্থিতির বিশদ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে পার্টি ইতিমধ্যে স্থানীয় মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে।

এ পর্যন্ত বিরোধী দল বা অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, র্যালি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং পার্টির নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমত গঠন করতে পারে। র্যালি শেষে পার্টি কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলবে।

সামগ্রিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামি নারী শাখার র্যালি দেশের নির্বাচনী পরিবেশে নারীদের ভূমিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করবে। র্যালি শেষ হওয়ার পর পার্টি কীভাবে এই অভিযোগগুলোকে সমাধান করবে এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments