ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে আজ দুপুর ১:৫০ টায় বিএনপি নির্বাচনী র্যালি শুরু হয়, যেখানে ২২ বছর পর দলীয় চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের উপস্থিতি লক্ষণীয়। র্যালির সূচনা হয় পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত দিয়ে, এবং তারেক রহমানকে প্রধান বক্তা হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে।
র্যালি মঞ্চে ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয় যে, তারেকের গাড়ি দলটি প্রায় ২:০০ টায় ত্রিশাল পার হয়ে র্যালি স্থানান্তরিত হয়েছে। সকাল থেকে ছোট ছোট দলে পার্টির নেতা ও কর্মীরা মাঠে পৌঁছাতে শুরু করে, আর সমর্থকরা বাস, রেল ও অন্যান্য যাত্রীবাহী পরিবহনের মাধ্যমে ময়মনসিংহ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে র্যালিতে যোগ দেন।
দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত মাঠের চারপাশের রাস্তায় ক্রমাগত সমাবেশের গতি দেখা যায়। রঙিন টুপি ও টি-শার্ট পরিহিত সমর্থকরা একসাথে অগ্রসর হয়ে মাঠের দিকে এগিয়ে যায়, যা র্যালির উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
র্যালি স্থানকে বড় স্ক্রিন ও স্পিকার দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে, যাতে উপস্থিত সবাই প্রোগ্রামের সব অংশ স্পষ্টভাবে অনুসরণ করতে পারে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে, যা শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে।
লক্ষ্যচিত্র ইউনিয়ন বিএনপি উপ-সভাপতি জালাল উদ্দিন সকাল ৯টায় প্রায় ১০০ জন নেতা ও কর্মীর সঙ্গে র্যালি স্থানে পৌঁছানোর কথা জানান। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য আনন্দের দিন। গত ১৭ বছর ধরে স্বাভাবিক রাজনীতি বা র্যালি করা সম্ভব হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপি সরকারে আসলে আমাদের এলাকার সড়ক ও অবকাঠামো উন্নত হবে, যা আমাদের প্রধান সমস্যার সমাধান হবে।”
কুষ্টিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কৃষি বিষয়ক সেক্রেটারি ইমদাদুল ইসলাম র্যালিটিকে স্থানীয় কর্মীদের জন্য বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এবার প্রথমবারের মতো আমরা তারেক রহমানকে সরাসরি মুখোমুখি হতে পারছি; এটি আমাদের জন্য বড় গর্বের বিষয়।”
শেরপুর জেলা বিএনপি কনভিনার সিরাজুল ইসলাম র্যালিতে উল্লেখ করেন, দলটি তারেকের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে এবং সব নির্বাচনী ক্ষেত্র জয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।
বিএনপি ময়মনসিংহ উত্তর ইউনিটের কনভিনার এনায়াতুল্লাহ কালাম রাষ্ট্রীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, যদিও বিশদ বিবরণ প্রকাশিত হয়নি, তবু তিনি র্যালির মাধ্যমে দলের সংগঠনের শক্তি ও জনমত গঠনকে গুরুত্ব দেন।
এই র্যালি বিএনপির ময়মনসিংহে পুনরায় সক্রিয়তা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের নেতৃত্বে তারেকের উপস্থিতি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে র্যালির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিয়ন্ত্রিত থাকলেও, বৃহৎ সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সতর্কতা বজায় থাকবে।
র্যালির শেষ পর্যায়ে উপস্থিতির সংখ্যা ও উচ্ছ্বাসের মাত্রা পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে এখন পর্যন্ত র্যালি স্বাভাবিকভাবে চলেছে, এবং তারেকের বক্তৃতা ও পার্টির ঘোষণাগুলি সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।



