বৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতের পর ঢাকা‑চট্টগ্রাম ও ঢাকা‑সিলেট রুটে আট ঘণ্টা বন্ধ থাকা সেবা আজ দুপুরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাফিলতির সম্ভাবনা যাচাই করছেন এবং তদন্তের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাত ১১:৪৫ টায় ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম মেইল (ডাউন) ট্রেন রওনা হয়। ট্রেনটি রাত ২:৪০ টায় বৈরবে পৌঁছায় এবং ৪০ মিনিটের বিরতির পর ৩:২০ টায় চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা শুরু করে। তবে স্টেশনের কাছাকাছি সিগন্যাল পয়েন্টে ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত চার নম্বর বগির সামনের দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
বগি লাইনচ্যুতের ফলে ট্রেনটি সিগন্যালের কাছে থেমে যায় এবং রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধারা বন্ধ করে দেয়। এই ঘটনার পর ঢাকা ও পূর্বাঞ্চল জোনের সকল চলমান ট্রেনের চলাচল অবিলম্বে স্থগিত করা হয়।
বৈরবে আটকে থাকা ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা‑চট্টগ্রাম রুটের পর্যটক এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এগারো সিন্দুর এক্সপ্রেস অন্তর্ভুক্ত ছিল। তদুপরি কুলিয়ারচর স্টেশনে বিজয় এক্সপ্রেস, নরসিংদীর দৌলতকান্দিতে পারাবত এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম‑মুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও খানা বাড়িতে তুর্ণা নিশিতা ও তিতাস কমিউটার ট্রেনও একই সময়ে আটকে থাকে।
বৈরবের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর রেলওয়ে বিভাগ দ্রুত রিলিফ ট্রেন পাঠায়। সকাল ৮ টায় আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে আটকে থাকা বগিগুলোকে সুরক্ষিত করে অন্য ট্র্যাকের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই কাজের ফলে ট্রেনের যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
ঘটনার তদন্তের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চারজন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির কাজ হল লাইনম্যানের কাজের গাফিলতি আছে কিনা তা নির্ণয় করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তাব করা।
বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার কামরুজ্জামান (ডিআরএম) দুপুর ১ টায় জানিয়েছেন যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত চালু করা হয়েছে এবং রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ আট ঘণ্টা বন্ধ থাকা রুটে একক লাইন চালু করে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
একক লাইন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা‑চট্টগ্রাম এবং ঢাকা‑সিলেট রুটে ট্রেনের সময়সূচি পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলেও, পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্ত ট্র্যাকের অতিরিক্ত পরীক্ষা চালিয়ে যাবে যাতে কোনো লুকায়িত ত্রুটি না থাকে।
তদন্ত কমিটি ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট লাইনম্যান ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।



