ঢাকার মগবাজারে জামায়াত-এ-ইসলামির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ২৭ জানুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির নারী কর্মীদের ওপর বাড়তে থাকা হামলা ও হুমকির প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশের পরিকল্পনা জানিয়ে দেন।
তাহের উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যান্য দল তুলনায় নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি এবং তারা ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে বিরোধী দলের কিছু নেতারাও নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে হিংসাত্মক কাজের চেষ্টা করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
দলটি জানায়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, ভোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং কেরানীগঞ্জসহ বহু জেলায় নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলা, হাত ও জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি এবং কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ঘটনা দলকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
তাহের আরও জানান, কিছু জায়গায় নারীদের ওপর হুমকি দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ভোটের সময় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে না পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই ধরনের হিংসা বন্ধ না হয় তবে দলটি অতিরিক্ত কর্মসূচি চালু করে নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারে।
দলীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সময়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার জন্য অনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছে। ১৪, ১৮ এবং ২৪ নম্বরের মতো অযৌক্তিক ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করলে আবার প্রতিবাদ গড়ে উঠবে, এ বিষয়ে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
তাহেরের মতে, নির্বাচনী কমিশন ও উচ্চ আদালত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইলেকশন কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তে দলীয় স্বার্থের প্রতি অনুকূলতা দেখা যায়, আর উচ্চ আদালত এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ।
সমাবেশের সময়সূচি অনুযায়ী, নারী সমাবেশটি ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলীয় নারীরা একত্রিত হয়ে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরবে।
তাহের জানান, যদি হিংসা ও হুমকি অব্যাহত থাকে, তবে দলটি আরও কর্মসূচি চালু করে নারীদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলটি সব ধরনের বাধা দূর করতে সচেষ্ট থাকবে।
দলীয় মুখপাত্রের মতে, নারী কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে এবং এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত-এ-ইসলামি এই সমাবেশের মাধ্যমে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়। দলটি দাবি করে, নারী অধিকারের রক্ষায় কোনো ধরনের হিংসা সহ্য করা হবে না।
সমাবেশের প্রস্তুতি চলাকালীন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আহ্বান জানানো হয়েছে। দলীয় কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং হিংসাত্মক আক্রমণ বন্ধ করতে চায়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



