দ্বিতীয় পর্যায়ের সরকারী কর্মী বেতন স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারে, এ কথা আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের একটি সভায় পাওয়ার ও এনার্জি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে অস্থায়ী সরকার নবম বেতন স্কেল প্রয়োগের কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
কথা বলা হয় যে, বেতন স্কেল সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন, সংশোধন বা বাতিলের সম্পূর্ণ ক্ষমতা পরবর্তী সরকারে থাকবে। এই মন্তব্যটি সরকারী ক্রয় বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া হয়।
অস্থায়ী সরকার এখনো কেবল বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পেয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে, নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারী কর্মীদের জন্য ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুবিধার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রস্তাব করেছে।
প্রস্তাবিত বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে, বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট অপারেটিং ব্যয়ের প্রায় এক-ভাগ এবং মোট বাজেটের ১৩ শতাংশের সমান।
স্মরণীয় যে, আটম জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ সালে প্রয়োগ করা হয়েছিল। ফৌজুল উপদেষ্টা জোর দিয়ে বললেন যে, বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সুপারিশগুলো সরাসরি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে নয় এবং এগুলোকে পর্যালোচনা করতে হবে। পর্যালোচনা কমিটি, যা ক্যাবিনেট সেক্রেটারির নেতৃত্বে গঠিত, আর্থিক প্রভাব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিশ্লেষণ করবে।
কমিটির কাজ শেষ হয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করার আগে, আর্থিক দিক থেকে প্রস্তাবের টেকসইতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর পরবর্তী সরকারকে সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হবে, যা তারা পরিবর্তন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে।
ফৌজুল উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সরকারী কর্মীরা গত দশ থেকে পনেরো বছর ধরে বেতন কমিশনের গঠন চেয়েছেন। অস্থায়ী সরকার এই চাহিদা পূরণে কমিশন গঠন করেছে, যাতে নির্বাচিত সরকার তার মেয়াদ শুরুতেই এই বিষয় নিয়ে অসন্তোষের মুখে না পড়ে।
এভাবে অস্থায়ী সরকার বেতন কমিশনের কাজকে প্রস্তুতি ও ধারাবাহিকতার কাজ হিসেবে সীমাবদ্ধ রেখেছে, যাতে নতুন সরকারকে পরিষ্কার ভিত্তি প্রদান করা যায়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব কেবল প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং পরবর্তী সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করা।
বেতন স্কেল সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তের ফলে, পরবর্তী সরকারকে আর্থিক ভারসাম্য এবং কর্মী সন্তুষ্টি দুটোই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বেতন বৃদ্ধি ও সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবের ফলে বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে, তাই আর্থিক বিশ্লেষণ অপরিহার্য।
অবশেষে, ফৌজুল উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী সরকার বেতন স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনা করে নিজের নীতি অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবে। এভাবে বেতন স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকবে।



