ওমান সরকার ২৬ জানুয়ারি রিয়াদে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলনের সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন কাজের ভিসা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য অনিয়মিতভাবে কাজ করা বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণকে ত্বরান্বিত করা এবং দু’দেশের শ্রম বাজারে স্বচ্ছতা আনা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল‑বুসাইদি। উপদেষ্টা অনিয়মিত কর্মীদের জরিমানা ছাড়াই বৈধকরণের সুযোগের জন্য ওমান সরকারের প্রশংসা করেন।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রকৌশলী, চিকিৎসক, নার্স ইত্যাদি উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পাশাপাশি, অদক্ষ ও আধা‑দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধও করা হয়।
ড. মাহাদ উল্লেখ করেন যে ২০২৩ সাল থেকে নতুন কাজের ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে অনিয়মিত কর্মীদের বৈধকরণকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ভিসা পুনরায় চালু করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সুযোগের দরজা খুলে দেবে।
ড. আসিফ নজরুল প্রযুক্তি ব্যবহার, আইনি সংস্কার এবং প্রস্থানের পূর্বে প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলছেন, কর্মীরা গন্তব্য দেশের ভাষা ও আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করলে কাজের পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষায় সহায়তা করবে।
উপদেষ্টা মাস্কাটে প্রথমার্ধে একটি যৌথ কারিগরি কমিটির পরবর্তী বৈঠক আহ্বান করেন এবং দ্বিপাক্ষিক শ্রম সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। এই উদ্যোগ দু’দেশের সরকারকে কৌশলগতভাবে সংযুক্ত করবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন ভিসা চালু হওয়া বাংলাদেশি রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াবে। একই সঙ্গে, ওমানের দ্রুত বর্ধনশীল অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলোর জন্য ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে, ভিসা পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য শ্রম সরবরাহকারী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তাই, বাংলাদেশ সরকারকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা পায় এবং ভিসা কোটা অতিক্রম না হয়।
ভবিষ্যতে, দুই মাসের মধ্যে ভিসা পুনরায় চালু হলে আবেদনপত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এই প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ও ভাষা কোর্সের পরিধি বাড়ানো এবং আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, ওমানের নতুন ওয়ার্ক ভিসা উদ্যোগ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, পাশাপাশি দু’দেশের অর্থনৈতিক ও শ্রমিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।



