23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআবুল কাশেম ও স্বপ্না কাশেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আবুল কাশেম ও স্বপ্না কাশেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার আদালতে আবুল কাশেম এবং তার স্ত্রী স্বপ্না কাশেমের বিদেশে যাত্রা বন্ধের আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাদের ও সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা তেতাল্লিশটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ জারি করা হয়।

এই পদক্ষেপগুলো ডুডকের দুই আবেদন পর্যালোচনার পর নেওয়া হয়েছে। ডুডকের সহকারী পরিচালক এস এম মামুনুর রশীদ আদালতে আবেদনপত্র দাখিল করে কাশেম দম্পতির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও হিসাব অবরুদ্ধের দাবি তুলে ধরেন।

আদালতের বেঞ্চে সহকারী রিয়াজ হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আদালতের আদেশের বৈধতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্দেশ দেন। বিচারকরা উল্লেখ করেন যে, কাশেম দম্পতি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে তা হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর পর ব্যাংকিং সিস্টেমে বৈধ করার চেষ্টা করেছেন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের ভিত্তি হল, তদন্ত চলাকালে তাদের নামের অধীনে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তেতাল্লিশটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেনগুলোতে অস্বাভাবিক প্যাটার্ন দেখা গিয়েছে, যা সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আদালত সিদ্ধান্ত নেয়।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাশেম দম্পতি যদি বিদেশে পালিয়ে যায়, তবে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তাদের বিদেশ গমন রোধের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা অপরিহার্য বলে আদালত রায় দেন।

ব্যানের আওতায় কাশেম দম্পতি এবং তাদের স্বার্থে থাকা সকল আর্থিক সম্পদ অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে তেতাল্লিশটি ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি অন্যান্য সম্পদও রয়েছে। আদালত নির্দেশ করে যে, এই হিসাবগুলো অবিলম্বে অবরুদ্ধ থাকবে এবং কোনো লেনদেন অনুমোদিত হবে না।

অধিকন্তু, আদালত জানায় যে, যদি কাশেম দম্পতি বা তাদের প্রতিনিধি কোনোভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা আইনি শাস্তির আওতায় পড়বে। এই শর্তে তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত সকল সুবিধা স্থগিত করা হবে।

এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ডুডক ও সংশ্লিষ্ট আইনগত দল পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, কাশেম দম্পতির বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে আরও প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে এবং আদালতের এই রায় তদন্তের কার্যকারিতা বাড়াবে।

আদালত এছাড়াও উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে কাশেম দম্পতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে, তা দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই রায়ের কার্যকরী হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ মেনে চলতে হবে এবং কোনো ধরনের লেনদেনের অনুমোদন দিতে পারবে না। ব্যাংকগুলোকে অবরুদ্ধ হিসাবের তালিকা ও লেনদেনের বিবরণ সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে প্রদান করতে হবে।

ডুডকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ আদালতে উল্লেখ করেন যে, কাশেম দম্পতির বিদেশ গমন রোধের মাধ্যমে তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।

বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের রায় কেবলমাত্র কাশেম দম্পতির নয়, সমগ্র আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আদালতের আদেশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ডুডক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, তারা রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আপিল বা অতিরিক্ত আবেদন দাখিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করবে।

সামগ্রিকভাবে, এই রায় কাশেম দম্পতির বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments