বাংলাদেশ আজ সামাজিক ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নারীর ভূমিকা কেন্দ্রীয়। জন্ম ও মৃত্যুহারের হ্রাস, আয়ু বৃদ্ধি এবং নারীর শিক্ষা উন্নতি এই প্রবণতাগুলোর মূল চালিকাশক্তি।
১৯৭২ সালে গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর ছিল; আজ তা ৭৫ বছরের বেশি, এবং নারীর আয়ু বৃদ্ধির হার পুরুষের তুলনায় বেশি। ১৯৯০-এর দশকের আগে পুরুষ ও নারীর গড় আয়ু প্রায় সমান ছিল, তবে এখন নারীর গড় আয়ু ৭৬ বছর, পুরুষের ৭৩ বছর।
একই সময়কালে গড় সন্তান সংখ্যা ১৯৭০-এর দশকে ছয়টির বেশি থেকে আজ প্রায় দুইটি হয়েছে। ইউরোপে একই ধরনের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটতে ১৫০‑২০০ বছর লেগেছিল, আর বাংলাদেশে তা মাত্র কয়েক দশকে সম্পন্ন হয়েছে, ফলে সামাজিক রূপান্তর এখনও সম্পূর্ণভাবে ধরা পড়েনি।
কম জন্মহার এবং দীর্ঘায়ু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, বিশেষ করে যখন কর্মক্ষম বয়সের জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। বর্তমানে বাংলাদেশে শিশু-প্রাপ্তবয়স্কের অনুপাত কম, ফলে শ্রমশক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা সঠিক বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল।
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যখন জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত উন্নয়ন অর্জন করেছিল, তারা শিক্ষা ও নারীর কর্মসংস্থানে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিল। বাংলাদেশও একই পথে অগ্রসর হলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য, তবে কর্মক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী, তবে কর্মশক্তিতে তাদের অংশ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এই পার্থক্য কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, গুণগত দিকেও প্রকাশ পায়।
অনেক নারী অর্ধেক সময় কাজ করেন, পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান এখনও সীমিত। ফলে নারীর আয় ও সামাজিক অবস্থান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায়ও প্রভাব ফেলে।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভিত্তিক কোর্সের প্রসার, নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, কর্মস্থলে লিঙ্গ সমতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং পারিবারিক সহায়তা নীতি বাস্তবায়নও জরুরি।
যদি সরকার ও বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে নারীর জন্য কাজের সুযোগ তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমর্থনমূলক নীতি গ্রহণ করে, তবে বর্তমান কম নির্ভরশীলতার সময়কালে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। অন্যথায়, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা হারিয়ে যেতে পারে।
প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শিক্ষার্থীরা যদি তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় নারীর শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনা করে, এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নারীর জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করে, তবে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান হার বাড়বে। আপনি কি আপনার ক্যারিয়ার গঠনে এমন কোনো দক্ষতা শিখতে চান যা নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে সাহায্য করবে?



