জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান মঙ্গলবার সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় আইপিএল থেকে সাতক্ষীরার ছেলে ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াকে “চরম অপমান” বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল এক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আলোচনায় অশ্রদ্ধা করেছে।
শফিকুরের মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারতে টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ থেকে সরে গিয়েছে। বোর্ডের দাবি ছিল, ম্যাচটি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হোক, তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। ফলে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে অস্বীকার করে, এবং আইসিসি স্কটল্যান্ডকে সেই স্থানে খেলার সুযোগ দিয়েছে। শফিকুর এই সিদ্ধান্তকে “বিব্রতকর” বলে বর্ণনা করে, দেশের গৌরব ও ক্রিকেটের মর্যাদার প্রতি আঘাতের ইঙ্গিত দেন।
শফিকুর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সরাসরি আবেদন করেন, “এখনো সময় আছে, আপনারা আপনারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন” বলে। তিনি অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, যখন কোনো দল নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নির্দিষ্ট দেশে খেলতে না চায়, তখন আইসিসি বিকল্প ভেন্যু অনুমোদন করে। একই নীতি যদি অন্য দেশগুলোকে দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য কেন তা প্রযোজ্য হবে না, এটাই তার যুক্তি।
বক্তা দেশপ্রেমের নীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেশীদেরকে বন্ধু ও সহযাত্রী হিসেবে দেখতে চাই, তবে আমরা তাদের কাছ থেকেও ন্যায়সঙ্গত আচরণ প্রত্যাশা করি”। শফিকুর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কোনো দেশের প্রতি অযৌক্তিক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা উচিত।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আল্লাহর একমাত্র স্রষ্টা হওয়া বিষয়ে জোর দেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, এর বাইরে আমাদের কোনো প্রভু নেই” বলে। তিনি এই বিষয়টি আপোসহীনভাবে উপস্থাপন করে, সকলের কাছে এই নীতি সম্মানিত হওয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই খেলছে না। আইসিসি স্কটল্যান্ডকে সেই শূন্যস্থান পূরণ করার অনুমতি দিয়েছে, ফলে বাংলাদেশের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছে। শফিকুরের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল ক্রিকেটের নয়, দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মুস্তাফিজুর বাদের পেছনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের দাবির প্রভাব উল্লেখ করা হয়। আইপিএল দলের কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে আলোচনার সময়, কিছু নেতার চাপের ফলে মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। শফিকুর এই সিদ্ধান্তকে দেশের স্বার্থের বিরোধী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
শফিকুরের বক্তব্যের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে তার সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট বিব্রতকর পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। শফিকুরের আহ্বান এখনো আইসিসি পর্যন্ত পৌঁছায়নি, তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ন্যায়সঙ্গত পন্থায় কোনো ক্ষতি না করে, সকলের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই”। ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি রোধে আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতি ও দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন, এটাই শফিকুরের শেষ মন্তব্য।



