গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে মঙ্গলবার সকাল ৬৩তম ব্যাচ নারী কারারক্ষীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সরাসরি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে যারা সশস্ত্রভাবে কাজ করছিল, তারা একের পর এক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যদি এই গোষ্ঠীর সদস্যদের সাহস থাকত, তবে তারা দেশে ফিরে আইনের সুরক্ষায় আশ্রয় নিত। সাহসের অভাবে তারা পালিয়ে গিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করে চলেছে। এই মন্তব্যের পর তিনি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার ওপর আস্থা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে সরকারকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হতে হবে।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, যারা সাপোর্টার সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করছিল, তারা এখন বিভিন্ন বিদেশি দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, যেন এই ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত আনা হয় এবং তাদের অবৈধ কার্যক্রমের দায়িত্ব নেওয়া হয়। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দুর্নীতিকে দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি কেবল আর্থিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রের মূল কাঠামোকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের সরকারের প্রতি আস্থা নষ্ট করে। কোনো কারাগার কর্মী যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করে, তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, কারাগারের কর্মীরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়; তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী এবং তাদের দায়িত্ব হল ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন, এরপর প্রশিক্ষণার্থীরা শারীরিক কসরত, অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষার কৌশল এবং অন্যান্য দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
কুচকাওয়াজের শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শীর্ষ প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। নারী প্রশিক্ষণার্থী রায়হানা আক্তার (সুবর্ণা) সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্সের জন্য ‘সেরা প্রশিক্ষণার্থী’ উপাধি পেয়ে সম্মানিত হন। তার পাশাপাশি ড্রিল, ফায়ারিং, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ এবং লিখিত পরীক্ষায় উৎকৃষ্ট ফলাফল অর্জনকারী অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলত উপস্থিত ছিলেন। সকল কর্মকর্তাই প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যৎ দায়িত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তিনি যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দুর্নীতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে বিদেশি নীতি ও অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে পারে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



