মঙ্গলবার সকালবেলায় লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাম্প ট্রাকের তীব্র গতি অটো রিকশাকে আঘাত করে, যার ফলে ১০ বছর বয়সী আফরিন আক্তার প্রাণ হারিয়ে। ঘটনাস্থলটি এলজিইডি ভবন এলাকার কাছাকাছি, যেখানে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা অবস্থিত।
আফরিন আক্তার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকার আক্তার পাটোরীর কন্যা এবং কাকলি শিশু অঙ্গনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার পরিবার জানায়, তিনি স্কুলে যাওয়ার পথে অটো রিকশা চড়ে গিয়েছিলেন।
ডাম্প ট্রাকের দ্রুত গতি অটো রিকশাকে দুমড়ে-মুচড়ে করতে বাধ্য করে, ফলে চালক ও যাত্রী দুজনই আঘাত পায়। আহত অটো রিকশা চালক মো. রাজুককে তৎক্ষণাৎ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
পুলিশ ও现场目击者ের মতে, ডাম্প ট্রাকের চাপা অটো রিকশার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় গাড়ি সরে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে হয়ে যায়। দুজনই আহত অবস্থায় স্থানীয় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সদর হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তারের মতে, আফরিনকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যু সংবাদটি স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকাহত করে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর পুলিশ ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করে এবং ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে। থানা ওসি ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ট্রাকের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
ডাম্প ট্রাকের মালিক ও চালকের পরিচয় জানার জন্য পুলিশ রেজিস্ট্রেশন সনদ ও লাইসেন্সের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ট্রাকের মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধ গতি ও অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি সৃষ্টি করার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটো রিকশা চালক মো. রাজুকের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তিনি গুরুতর আঘাতের শিকার। তার চিকিৎসা খরচ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবার এখনও স্পষ্ট তথ্য পায়নি।
দুর্ঘটনা ঘটার পর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি সেবা ও রেসকিউ ব্যবস্থার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানায়। একই রকম দুর্ঘটনা রোধে গতি সীমা মানা ও ভারী গাড়ির সঠিক রুট ব্যবহার করার নির্দেশনা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, ডাম্প ট্রাকের গতি সীমা অতিক্রম করা এবং অটো রিকশার সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা দুটোই এই মারাত্মক ঘটনার মূল কারণ। তদন্তে ট্রাকের গতি রেকর্ডার ও রিকশার ড্যাশ ক্যামেরা থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
অফিসার ওয়াহিদ পারভেজ উল্লেখ করেন, ডাম্প ট্রাকের চালককে দ্রুত অনুসন্ধান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়িত্ব আরোপের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। পরিবার ও সম্প্রদায়ের শোকের মধ্যে, নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোরদার হয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে সব তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



