অ্যানথ্রপিকের ২০২৬ Agentic Coding Trends Report প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে কাজের ভবিষ্যৎ স্বয়ংক্রিয়তা নয়, তদারকি হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থা অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ থেকে তৈরি। এতে দেখা যায় যে AI প্রযুক্তি এখন মানবিক সিদ্ধান্তের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে, সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন নয়।
প্রতিবেদনের মূল দাবি হল “মানব তদারকি বুদ্ধিমান সহযোগিতার মাধ্যমে স্কেল করে”। এর অর্থ হলো AI সিস্টেমগুলো এখন নিজেদের সীমা চেনে, কখন মানব হস্তক্ষেপ প্রয়োজন তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে। একই সঙ্গে কর্মীরা কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করে, যখন তাদের সিদ্ধান্তের প্রভাব সর্বোচ্চ হয়।
এই পরিবর্তন বিশেষত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে স্পষ্ট। AI এজেন্টগুলো কোড লিখতে, টেস্ট চালাতে, ত্রুটি ডিবাগ করতে এবং ডকুমেন্টেশন তৈরি করতে সক্ষম। তবে অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ গবেষণা দেখায় যে ইঞ্জিনিয়াররা তাদের কাজের প্রায় ৬০% অংশে AI ব্যবহার করে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে কাজ অর্পণ করতে পারে মাত্র ০-২০%।
অধিকাংশ AI‑সহায়িত কাজ এখনও মানব তদারকি, যাচাই এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রাখে। ইঞ্জিনিয়াররা এখন AI‑এর ওপর নির্ভর করে এমন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে, যেগুলো মানবিক বিচার ছাড়া সমাধান করা কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে আর্কিটেকচারাল অসঙ্গতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যবসায়িক প্রভাবযুক্ত সিদ্ধান্ত।
রুটিন চেক এবং সাধারণ ত্রুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়, আর অনিশ্চিত বা উচ্চ ঝুঁকির পরিস্থিতি মানব কর্মীর কাছে পাঠানো হয়। এই পদ্ধতি “সবকিছু পর্যালোচনা” থেকে “যা গুরুত্বপূর্ণ তা পর্যালোচনা” তে পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ। ফলে কর্মীরা সময় বাঁচিয়ে মূল সমস্যার ওপর মনোযোগ দিতে পারে।
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের বাইরে একই প্রবণতা আইন, অপারেশন এবং ডিজাইন টিমেও দেখা যায়। এই বিভাগগুলোতে AI পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে, তবে ব্যাখ্যা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদন মানবের হাতে থাকে। ফলে কাজের গতি বাড়লেও দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা মানবের ওপরই থাকে।
অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী AI ব্যস্ততার কাজ কমিয়ে দেয়, তবে মানবিক দায়িত্বের পরিধি সংকুচিত হয় না। তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে কর্মস্থলের কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে।
সারসংক্ষেপে, AI এখন স্বয়ংক্রিয়তার চেয়ে তদারকি বৃদ্ধির মাধ্যমে কাজের ধরণকে পরিবর্তন করছে। কর্মীরা AI‑কে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে, যেখানে সিস্টেমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্যার সূচনা চিহ্নিত করে, আর মানবিক বিচার প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে। এই মডেল ভবিষ্যতে অধিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।



