কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার রেল জংশনে রাত ৩টার দিকে একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা‑সিলেট‑চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল আট ঘণ্টা বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনা ঘটার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করে, এবং মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
দুর্ঘটনা সোমবার রাত ১২ঃ৩০ টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ঢাকা মেইল‑২ (ডাউন) ট্রেনের সঙ্গে ঘটেছে। ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের নিকটবর্তী জংশনে থেমে, ২ঃ৫৫ টায় সিগন্যাল পেয়ে চলার প্রস্তুতি নেয়। তবে স্টেশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হওয়ার পর একটি বগির চারটি চাকা রেল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনার ফলে আপ ও ডাউন উভয় দিকের ট্রেন চলাচল থেমে যায় এবং রুটের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকে যায়।
স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, লাইনচ্যুত বগির কারণে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভয়াবহ অসুবিধা হয়। আটকে থাকা ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়, যা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে।
ঘটনা সনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের জরুরি সেবা দল রেলপথে পৌঁছায়। সকাল ৭টায় আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে, এবং চার ঘণ্টা ধরে লাইনচ্যুত বগি তুলে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যায়। বেলা ১১টায় বগি সাফ হওয়ার পর রেলপথ পুনরায় চালু হয় এবং ঢাকা‑সিলেট‑চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বিভাগ বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে বগির চাকার লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।
এই ঘটনার ফলে রেলপথে চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে স্থানীয় বাস ও রিকশা সেবা বাড়িয়ে দেয় এবং প্রভাবিত রুটের যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত টিকিটের ব্যবস্থা করে। এছাড়া, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে, যাতে তাদের অধিকার রক্ষা পায়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর রেলওয়ের কর্মীরা রেলপথের নিরাপত্তা পরীক্ষা বাড়িয়ে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট রেললাইনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে। এই ধরনের ঘটনা রেল পরিবহনের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, তাই বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রদান করতে সচেষ্ট।
সামগ্রিকভাবে, ভৈরব বাজার রেল জংশনে ঘটিত লাইনচ্যুত ঘটনা আট ঘণ্টা রেল বন্ধের কারণ হয়, তবে দ্রুত উদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে রুটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। তদন্ত চলমান থাকায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবং রেল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



