পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে যে ট২০ বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার অথবা পরের সোমবার নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের আগে বোর্ডের প্রধান মোহসিন নকভি শেহবাজ শারীফের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রেটোরিক্সে পরিবর্তন এনেছেন। পূর্বে টুর্নামেন্ট বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র আলোচনা চললেও এখন তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
মোহসিন নকভি শেহবাজ শারীফের সঙ্গে এক উৎপাদনশীল বৈঠক করেছেন এবং বৈঠকের পরে সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি বিষয়ক তথ্য প্রদান করা হয়েছে এবং সব বিকল্প খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষই টুর্নামেন্টের সময়সূচি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বিবৃতিতে নকভি উল্লেখ করেন, “প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারীফের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আইসিসি বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে এবং তিনি সব বিকল্প টেবিলে রেখে সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার অথবা পরের সোমবার নেওয়া হবে।” এই বক্তব্য পিসিবির আনুষ্ঠানিক সামাজিক মিডিয়া পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে।
বৈঠকের আগে পাকিস্তানি মিডিয়া অনুমান করছিল যে দলটি ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের সঙ্গে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। আইসিসি ও পিসিবি উভয়ই এই ম্যাচকে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
আইসিসি পাকিস্তানের অংশগ্রহণ চুক্তি লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে সাসপেনশন এবং পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল) এর বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য ন্যাশনাল অফিসিয়াল সার্টিফিকেট (এনওসি) প্রত্যাহার। এই শর্তগুলো দলকে বয়কটের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে বাধা দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
আইসিসি স্পষ্ট করে বলেছে যে পাকিস্তান কোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ম্যাচ বয়কটের ভিত্তিতে কোনো অধিকার পাবে না। অংশগ্রহণ চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুসারে দলকে নির্ধারিত সময় ও স্থানে খেলতে হবে। তাই টুর্নামেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন বা ম্যাচ বাতিলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
পিসিবি এখনো সব বিকল্প টেবিলে রেখে সিদ্ধান্ত নেবে, তবে বয়কটের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। দলটি আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় যে পাকিস্তান টুর্নামেন্টের সময়সূচি মেনে চলা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
আইসিসি কর্তৃক উল্লেখিত শাস্তি শুধুমাত্র টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ওপর নয়, বরং পাকিস্তান সুপার লীগে বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণেও প্রভাব ফেলতে পারে। এনওসি প্রত্যাহার হলে পিএসএল-এ বিদেশি খেলোয়াড়দের ভিসা ও কাজের অনুমতি প্রভাবিত হবে। তাই পিসিবি এই সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চায়।
বৈঠকের পর পিসিবি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার অথবা পরের সোমবার নেওয়া হবে। এই সময়সীমা দলের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের লজিস্টিক্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অন্যান্য দেশের দলগুলিও এই সময়সূচি অনুসরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, পিসিবি শেহবাজ শারীফের সঙ্গে আলোচনা শেষে ট২০ বিশ্বকাপের বয়কটের সম্ভাবনা কমিয়ে আনেছে এবং আইসিসি নির্দেশিত শর্ত মেনে চলার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন দলটি টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুসারে প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে এবং নির্ধারিত ম্যাচে অংশগ্রহণের দিকে অগ্রসর হবে।



