ভারত এ ও রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দশ হাজার কোটি ডলার বাণিজ্য অর্জনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই লক্ষ্যটি দুই দেশের উচ্চতর অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক পরিমাণের দ্রুত বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। চুক্তির ঘোষণা সোমবার রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারত এ রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার পিটিআইর সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করা হয়।
গত অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬,৮৭০ কোটি ডলার পৌঁছায়, যা রেকর্ড স্তর। এই পরিমাণের বেশিরভাগই রাশিয়া থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল থেকে আসে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারত এ রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা চালু করেছে, বিশেষ করে কৃষি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
চুক্তির মূল শর্তে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক পরিমাণকে বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা এবং নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা গড়ে তোলা অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে জ্বালানি, উচ্চপ্রযুক্তি, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য উভয় পক্ষই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি করছে, যা শুল্ক হ্রাস এবং পণ্য প্রবাহকে সহজতর করবে।
রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার উল্লেখ করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত এ প্রস্তাবিত চুক্তিতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দুই দেশের সরকার উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগের গতি বাড়াবে।
বিনিময় মুদ্রা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারত এ সাম্প্রতিক দুই বছরে রুপি ও রুবল ব্যবহার বাড়িয়ে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে। বিনয় কুমার জানান, এই মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও চালু থাকবে, যা ব্যবসায়িক লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস এবং লেনদেনের খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের জন্য ভারত এ রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ানোর কৌশলগত পরিকল্পনা চালু করেছে। কৃষি পণ্য, বিশেষ করে চাল, ডাল ও তেলজাত পণ্য, পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যাল ও রক্ষা সরঞ্জাম রাশিয়ার বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা এবং দু’দেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে লক্ষ্যভিত্তিক।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই চুক্তি শুধুমাত্র জ্বালানি সেক্টরে নয়, বরং সার, ওষুধ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বাণিজ্যেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। রাশিয়ার প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা এবং ভারত এ বাজারের চাহিদা একত্রে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। ফলে উভয় দেশের শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি বাণিজ্যিক লেনদেনের কাঠামো পরিবর্তন করে রাশিয়া ও ভারত এ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মুদ্রা অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামা ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দু’দেশের নীতি সমন্বয় এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়া ও ভারত এ ১০ হাজার কোটি ডলার বাণিজ্য লক্ষ্য ২০৩০ পর্যন্ত নির্ধারণের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন স্তরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে। বাণিজ্য পরিমাণ বৃদ্ধি, মুদ্রা বিনিময় সহজীকরণ এবং নতুন সেক্টরে বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের বাজারে পারস্পরিক সুবিধা বাড়বে, তবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।



