রথ নামের এক নারী ২০২০ সালের শুরুর দিকে তার সঙ্গীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ জানায়, যিনি পুলিশ অফিসার ছিলেন। বিচ্ছেদের সাত মাস পরেই ঘটিত এই ঘটনার রিপোর্ট দাখিলের পর রথ নিজেই মিথ্যা অভিযোগের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং ‘বিচারিক প্রক্রিয়া বিকৃত করা’ অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে আদালতে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
রথের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো অপরাধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে তাকে মিথ্যা অভিযোগের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা চালু করা হয়। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রোসিকিউশন সার্ভিস (CPS) অনুসারে, মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগের জন্য প্রতি বছর মাত্র অল্প সংখ্যক মানুষকে দায়ের করা হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য, যা ২০১১-১২ সালের ১৭ মাসের জন্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৫,৬৫১টি ধর্ষণ মামলার তুলনায় মাত্র ৩৫টি মিথ্যা অভিযোগের মামলা দেখায়, তা এই বিষয়ের বিরলতা নির্দেশ করে। একই সময়ে CPS নির্দেশিকা আপডেটের ফলে মিথ্যা অভিযোগের মামলায় হ্রাস দেখা যায়।
মিথ্যা অভিযোগের শিকার হওয়া ব্যক্তি প্রায়শই পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে সময় কাটাতে বাধ্য হন, এবং অভিযোগের নাম প্রকাশিত হলে সামাজিক কলঙ্কের শিকার হন। এমনকি দ্রুত মুক্তি পেলেও তাদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। বর্তমান CPS নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগের ক্ষতিকর প্রভাব স্বীকার করা এবং এসব মামলাকে দৃঢ়ভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের জন্য উচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখতে এবং সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ স্তরের আইনজীবীর অনুমোদন পেতে হবে।
রথের মামলায় বিচারক মন্তব্য করেন যে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্ভবত ভিত্তিহীনভাবে চালু হয়েছে। তিনি প্রমাণের অভাব ও তদন্তের ত্রুটি তুলে ধরে মামলাটিকে প্রশ্নের মুখে রাখেন। এই পর্যবেক্ষণের ফলে রথের বিরুদ্ধে চালু হওয়া অভিযোগগুলো ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়।
বছরের পর বছর রথের নাম পরিষ্কার করার জন্য লড়াই চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত, আদালত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে এবং রথকে মুক্তি দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে রথের ওপর আরোপিত শাস্তি ও সামাজিক কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
এই ঘটনাটি দেখায় যে, মিথ্যা অভিযোগের ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অভিযোগকারী উভয়েরই জীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। CPS-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুলিশকে এমন মামলায় দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে উভয় পক্ষের অধিকার রক্ষা পায়। একই সঙ্গে, মিথ্যা অভিযোগের শিকারদের জন্য যথাযথ সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
রথের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা পুনরায় বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের মামলায় অতিরিক্ত সতর্কতা ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করা হবে।
বিবিসি নিউজ অনুসারে, যুক্তরাজ্যে মিথ্যা ধর্ষণ অভিযোগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, এ ধরনের মামলায় সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতি বড় হতে পারে। তাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।



