27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবরগুনা জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি শামীম আহসানকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

বরগুনা জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি শামীম আহসানকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

বরগুনা জেলার জামায়াত-এ-ইসলামি শামীম আহসানকে দলের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তার ডাকসু সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্যের ফলে রুকন পদ স্থগিত ও অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

শামীম আহসান দলীয় সহকারী সেক্রেটারি পদে কর্মরত ছিলেন এবং বরগুনা-২ (বামনা‑পাথরঘাটা‑বেতাগী) আসনের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালিতে অনুষ্ঠিত জনসভায় সুলতান আহমেদের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন।

সেই সভায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে ডাকসু পূর্বে মাদকের আড্ডা ও বিশ্যাখানা হিসেবে পরিচিত ছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান জামায়াত-এ-ইসলামি এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ দূর করতে সক্ষম।

শামীমের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বহু নাগরিক এবং শিক্ষার্থী তার বক্তব্যকে অনুপযুক্ত ও অবমাননাকর বলে সমালোচনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষও মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে, শিক্ষার্থীদের গর্ব ও সুনাম রক্ষার আহ্বান জানায়। একই দিন, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ক্যাম্পাসে বিশাল প্রতিবাদ সংগঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থী ও কর্মীরা শামীমের বক্তব্যের বিরুদ্ধে র্যালি দেন।

বরগুনা জেলার জামায়াত-এ-ইসলামি আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন শামীমের মন্তব্যকে দলের নীতি ও আদর্শের বিরোধী বলে উল্লেখ করে, অবিলম্বে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি লিখিতভাবে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তকে নিশ্চিত করেন।

দলীয় নোটিশে শামীমের মন্তব্যকে “বেফাঁস” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা বর্তমান ও প্রাক্তন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আঘাত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য দলীয় সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

দলীয় কর্মপরিষদ শামীমের রুকন পদ স্থগিত করার পাশাপাশি, তাকে সকল ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রুকন পদ হল জামায়াত-এ-ইসলামি দলের স্থানীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ, যা এখন শূন্য থাকবে।

অব্যাহতি নোটিশে শামীমের মন্তব্যের ফলে দলের রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তা সংশোধনের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, মন্তব্যের ফলে দলের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠে এসেছে।

পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের আফরোজ নামের এক ব্যক্তি শামীমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, শামীমের মন্তব্য নির্বাচনের সময় অনুপযুক্ত এবং ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনা বরগুনা-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামি এখনো প্রার্থী সুলতান আহমেদের সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছে। শামীমের অব্যাহতি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দলটি শামীমের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি জানিয়ে, নতুন কর্মীকে রুকন পদে নিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রচারাভিযানে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, কোনো অনুপযুক্ত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলি জামায়াত-এ-ইসলামির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নৈতিক মান বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে দলের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments