হাই কোর্টের বিচারক জেবিএম হসান ও বিচারক আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া গঠিত বেঞ্চ গতকাল মানবিক ভিত্তিতে জুয়েল হাসান সাদ্দামের বেইল অনুমোদন করে। সাদ্দাম ছাত্রলীগের এখন নিষিদ্ধ বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং একাধিক অপরাধমূলক মামলায় জড়িত ছিলেন। বেইল আদেশের প্রধান কারণ হিসেবে তার স্ত্রী ও নবজাতক পুত্রের মৃত্যুর পরপরই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেইল আদেশের পরপরই সাদ্দামের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে। তার মা দেলওরা একরাম বেইলকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও, “বেইল হয়েছে, তবে এখন কী পরিবর্তন হবে?” বলে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “বেইল মানে কী, যখন বাড়ি ফিরে দেখব কেবল স্ত্রীর ও পুত্রের কবর।”
সাদ্দামের শ্বশুর, জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বেইল আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন, তবে পূর্বে পারোল অস্বীকারের কারণকে মানবিক নাকি অমানবিক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হবে তা স্পষ্ট করতে সরকারের আহ্বান জানান।
মামার চাচা হেমায়েত উদ্দিন জানান, পারোলের আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি। তিনি বেইল আদেশের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এখন আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।” অন্যদিকে শ্বশুরের ভাই শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বেইলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, “এই বেইল কী কাজে? দেশের সবকিছু নাটকের মতো হয়ে গেছে।”
সাদ্দাম এক্রাম হাওলাদার ও দেলওরা একরামের সন্তান, সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে বাগেরহাটের বাসিন্দা। ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তিনি গোপনে লুকিয়ে থাকেন। গোপালগঞ্জে ৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং তখন থেকে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে জেলায় রাখা হয়।
শুক্রবার বিকাল, ২৩ জানুয়ারি, সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুভর্ণা (যাকে স্বর্ণালি নামেও চেনা যায়), বয়স ২২, এবং নবমাসের শিশুটি সেজাদ হাসান নাজিফের দেহ উদ্ধার করা হয়। দুজনের মৃত্যু কেসে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
বেইল আদেশে সাদ্দামকে জেল থেকে মুক্তি না দিয়ে, পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভ্রমণ নথি জমা দিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ে কোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। আদালত ভবিষ্যতে পারোলের পুনর্বিবেচনা ও অতিরিক্ত শর্তাবলী নির্ধারণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্বজনের মৃত্যুর পর মানবিক বেইল প্রদান বাংলাদেশে বিরল, তবে হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারের স্বায়ত্তশাসনকে তুলে ধরে।
প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই বেইল আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে পারোলের আবেদন পুনরায় বিবেচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে, ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনও মামলার পটভূমিতে প্রভাব ফেলছে।
সাদ্দামের পরিবার এখন গভীর শোকের মধ্যে বেইলকে সীমিত স্বস্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। যদিও বেইল তার জেলখানা থেকে মুক্তি দেয় না, তবু আদালতের এই মানবিক পদক্ষেপকে একমাত্র আইনি রিলিফ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোর্টের চূড়ান্ত রায় ও সম্ভাব্য আপিলের ফলাফল সাদ্দামের আইনি অবস্থাকে নির্ধারণ করবে।



